ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১নং ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের চিলাহাটিতে অবস্থিত জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা। উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষের অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়ে প্রায় অচলাবস্থা। এতে করে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও একদিকে যেমন সময়ের কালক্ষেপণ হচ্ছে, অপরদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম ক্ষতির সমুক্ষিণ হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, এক সময়ের স্বমহিমায় উদ্ভাসিত ঐতিহ্যেবাহী বিদ্যাপীঠ জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ কর্তৃক দীর্ঘদিন যাবত দ্বায়িত্বহীন আচরণ এবং যথাযথ দ্বায়িত্ব পালনের অবহেলায় প্রতিষ্ঠানটি শৃঙ্খলাহীনতা অনুপযুক্ত ক্লাসরুম ভঙ্গুর অবকাঠামোর পাশাপাশি মাদ্রাসার ভিতর দিয়ে অবাঞ্ছিত জন চলাচলের কারণে আজকে আমরা ন্যার্য্য অধিকার এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষো গত আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৪ইং সময়কালে আমরা মাদ্রাসা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনসহ বিগত সময়ে একাধিকবার ছাত্র আন্দোলন সংগঠিত করেছি। তবে এতদাস্বত্তেও বিষয়টি নিয়ে অদ্যবধি কোন কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। এবং উর্ধতন কর্তৃপক্ষের এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে কোন ভুরুক্ষেপই নেই।
উল্লেখ্য যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানান গত এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষক শিক্ষিকারা নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন না তারা ক্লাস বর্জন করেছে। এ বিষয়ে কারণ হিসেবে জানা যায় কিছু কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসে না আর আসলেও নামমাত্র হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে উধাও হয়ে যায়। এ ব্যাপারে শিক্ষকদের মধ্যে চলছে নানান বিরোধ পক্ষান্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সে কারণে গত ৩১শ আগস্ট ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাসরুম ও অফিস কক্ষের গেটে তালা লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এবং শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গনে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিক এমন সময় অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের বলেন তোমাদের দাবি দাবা যৌক্তিক আমি এর সঙ্গে একমত পোষণ করছি এবং ঘোষণা দিচ্ছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তোমাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাধান বের করব।
১লা সেপ্টেম্বর সোমবার মাদ্রাসার এহেন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জাকির হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি প্রতিনিধিকে বলেন হ্যাঁ কিছুটা অসংগতি চলছে তবে আজকে সকল শিক্ষক মন্ডলী উপস্থিত আছেন শুধুমাত্র একজন শিক্ষক মনজুর মোরশেদ স্যার নেই তেনাকে যথারীতি অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম নুরুল আমিন শাহ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান চিলাহাটি জামিউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার বিষয়গুলি আমি মোটামুটি অবহিত রয়েছি। তিনি আরো বলেন আমি লিখিতভাবে অভিযোগ পেলে এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
প্রসংগতঃ প্রতিষ্ঠানের এই অচলাবস্থার পরিস্থিতি নিয়ে ছাত্র/ছাত্রী শিক্ষক/ শিক্ষিকা ও স্থানীয় সাধারণ মানুষদের মধ্যে চলছে নানান উদ্বেগ উৎকণ্ঠার পাশাপাশি মোহ মোহ পরিস্থিতি হঠাৎ করে কোন বড় একটা দুর্ঘটনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রী ও জনমনে চলছে নানান আলোচনা সমালোচনার ঝড়।




















