মো. তরিকুল ইসলাম সুজন, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি যশোর: যশোরে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় বাদীর স্ত্রীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. আলামিন (২৩), মো. মুস্তাক বিশ্বাস (৩৩)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মঠবাড়ী এলাকার মো. হারুন বিশ্বাস (৬০) অভিযোগ করেন, তার মেয়ে সুরাইয়া আক্তার সিনথিয়ার সঙ্গে মণিরামপুরের মথুরাপুর এলাকার মো. আলামিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে আলামিনসহ তার পরিবারের লোকজন ফোন করে জানায়, সুরাইয়া গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে মেয়ের মৃত্যুকে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বাদী আলামিন, তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে ও তার স্ত্রীকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন ১ নম্বর আসামি আলামিন।
এজাহার অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাদীর স্ত্রী মামলার কাজে যশোর আদালতে আসেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে রিকশাযোগে শংকরপুর বাস টার্মিনালের দিকে যাওয়ার সময় বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩৫ মিনিটে শংকরপুর বটতলা এলাকায় দুইটি মোটরসাইকেলে করে আসা আলামিন, মুস্তাকসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তার রিকশার গতিরোধ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, এরপর তাকে জোরপূর্বক রিকশা থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় আলামিন হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তা বাদীর স্ত্রীর ডান হাতের কনুইয়ের নিচে লেগে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়। এছাড়া অপর আসামি তার বাহুতে পরপর তিনটি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
বাদীর আরও অভিযোগ, হামলাকারীরা তার স্ত্রীর গলায় থাকা ৫ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, প্রায় ১০ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের একটি ওয়ালটন টাচ মোবাইল ফোন এবং সাইড ব্যাগে থাকা নগদ ২৫ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যায়। একই সময় তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ সময় তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে মো. সোহাগ হোসেন (৪২) ও **মো. দীপু (২৪)**সহ স্থানীয়রা আহত নারীকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাদী জানান, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে স্ত্রীকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয় ও পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং আহত স্ত্রীর চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় এজাহার দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন বাদী মো. হারুন বিশ্বাস।
তবে এজাহারে করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।




















