আইবিএন রিপোর্ট : বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে সোমবার জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত র্যালি শেষে এক সভায় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা শহরের খাল-নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী জারি করেন। তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থ চিন্তা করে দেশের সমৃদ্ধি ধ্বংস করা যাবে না; রাষ্ট্রের ভালোর কথাও ভাবতে হবে।
সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলার সিভিল সার্জন এ এফ এম মুশিউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আলমগীর হুসাইন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রসিকিউশন) মো. ইব্রাহিম হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, একসময় শীতলক্ষ্যা নদীকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধি এসেছিল। কিন্তু আজ সেই নদী মরে গিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, কারণ খালগুলো ময়লায় ভর্তি হয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা ৩৫৩৪ ট্রাক ময়লা খাল থেকে অপসারণ করেছি। আমরা পরিষ্কার করছি, কিন্তু আবার ময়লা ফেলা হচ্ছে। আমরা চাই না এই শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পরুক।”
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “প্রশ্ন হচ্ছে, এই ময়লাগুলো কে ফেলছে, কেন ফেলছে? এর মূলে মানুষের বিবেকবোধের অভাব। একজন ভাবে, আমি ফেললে কিছু হবে না। কিন্তু যখন ১০ লাখ মানুষ একইভাবে ময়লা ফেলে, তখন তা ভয়াবহ বোঝায় পরিণত হয়।” খাল ও নদী দখল-দূষণের ফলে নানা সংকট তৈরি হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন। এর ফলে ৮০৫টি ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙে ফেলতে হচ্ছে। এসব ব্রিজগুলো লো-হাইট করে তৈরি করা হয়েছে, যা পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিচ্ছে। “কেউ হয়তো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এসব করেছে, কিন্তু একবারও চিন্তা করেনি—এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু নিজের স্বার্থ চিন্তা করেছে,” তিনি যোগ করেন।
শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা চাই না এই শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাক। শুধু নিজের ভালো চিন্তা করলেই হবে না, রাষ্ট্রের ভালোও চিন্তা করতে হবে।” সভায় অংশগ্রহণকারীরা এই বক্তব্যে সহমত প্রকাশ করেন এবং খাল-নদী রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারী প্রশাসন শহরের পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, যাতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা ও দূষণের মতো সমস্যা কমানো যায়।




















