
শেখ শফিউল আলম লুলু, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ ২৫ শয্যার সরকারি শিশু হাসপাতালটি জনবল সংকটের কারণে শিশুদের চিকিৎসা সেবা মারাত্মক ভাবে ব্যবহত হচ্ছে। ডাক্তার সংকট তেমন একটা না থাকলেও শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেই ল্যাবরেটরি। ফলে ছোট খাটো পরীক্ষাও বাইরে থেকে করে আনতে হচ্ছে অভিভাবকদের। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীর ২০টি পদে কোন নিয়োগ না দেওয়ায় শিশু হাসপাতালের স্বাভাবিক কাজ চরম ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ৫ কোটি ৬৪ লাখ ২ হাজার ৮৭ টাকা খরচ করে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের কেন্দ্রীয় বাসর্টামিনাল এলাকায় ৩ একর জমির উপর দেশের একমাত্র সরকারি শিশু হাসপাতালটি নির্মাণ করে। ২০০৬ সালের দিকে হাসপাতালটির উদ্বোধন করা হলেও কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ধীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় হাসপাতালের মূল ভবন, স্টাফ কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ২০১৯ সালের দিকে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা খরচ করে মেরামত ও সংস্কার করা হয়। ২০২১ সালের ৯ জানুয়ারি নির্মানের ১৫ বছর পর শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। ডাক্তার ও নার্সসহ বিভিন্ন বিভাগে লোকবল সংকট দেখা দেয়। ধীরে ধীরে ডাক্তার ও নার্স সংকট কিছুটা কাটিয়ে উঠলেও চালুর ৩ বছরেও শিশু হাসপাতালে ওয়ার্ডবয়, আয়া, কুক, মশালচি, মালি, ঝাড়–দার ও সুইপার পদে কোন নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শিশু হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ আলী হাসান ফরিদ (জামিল) জানান, মাত্র ৩ জন চিকিৎসকের স্থায়ী নিয়োগ রয়েছে। আর ৩ জন চিকিৎসক ডেপুটেশনে আছে। ২১ জন নার্সের মধ্যে ১৯ জন আছে। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীর সব পদই ফাঁকা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, জনবল ও প্যাথজলির যন্ত্রপাতি চেয়ে ৩ বছরে অন্তত ১০ বার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডাঃ শুভ্রা রানী দেবনাথ জানান, শিশু হাসপাতালটির পুর্নাঙ্গতা ফিরিয়ে আনতে প্রতিনিয়ত মন্ত্রনালয়ের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আশা করা যায় দ্রæত জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট দুর হবে।
মেইল: bangladeshsokal@gmail.com, web: www.bd-sokal.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ সকাল. All rights reserved.