
মোঃ ফিরোজ আহমেদ, পাইকগাছা॥ খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে ঢোলকড়মি গাছ ও ফুল ছোট বড় সবার কাছে সমাদৃত ও পরিচিত। যে কোনো পরিবেশে রাস্তার পাশে পতিত জমিতে অযত্ন অবহেলায় আগাছা হিসেবে এর জন্ম হয় সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট করে ফুল ফুটলে।
কিন্তু আফসোস প্রকৃতির বিরূপ প্রভাব, মানবসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ঢোলকড়মি গাছ ওফুল।ঢোলকড়মি ফুলের সেই সমারোহ আর চোখে পড়ে না। খুলনার পাইকগাছা-কয়রায় যদিও এখনো দু’এক জায়গায় দেখা মিললেও অচিরেই তা বিলুপ্তর পথে। ঢোলকড়মিসহ অন্যান্য উদ্ভিদ বিলুপ্তির মূল কারণ বিভিন্ন জলাশয় লবণ পানির চিংড়ি চাষ। দিনে দিনে ঢোলকড়মি একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। অথচ আজ থেকে ২ দশক আগেও ঘেড়া বেড়া হিসেবে ঢোলকড়মির ব্যাপক ব্যবহার ছিল ফুলের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য ছিল চোখে পড়ার মতো। শীতের সকালে প্রকৃতি বুক জুড়ে অন্যরকম সাজে সেজে উঠতো। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা যেত চারদিকে ফুটন্ত সাদা এবং হালকা গোলাপ ফুলের সমারোহ। মনে হতো এ যেন ফুলের জগৎ ফুল শুধু পরিবেশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে তা নয় ঢোলকড়মি গাছে রয়েছে সাদা দুধের মত আঠা মানুষ অথবা কোন প্রাণী চোখে গেলে চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্ভব না থাকে ও আঠা নাকে মুখে লাগলে জ্বালা যন্ত্রণা হয় এছাড়া মাইকের মত ফুল দেখতে। এখনও ঢোলকড়মি গাছের ফুল ফুটলে প্রবীণদের শৈশবের কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন গ্রামের ছেলে-মেয়েরা ঐ ফুল তুলে আনত দু’ভাবে কেটে কেটে মালার মতো করে শিশু কিশোররা একজন অপর জনের গলায় পরিয়ে দিত। রসবোধ সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে মহাকালের অতল গহ্বরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু ব্যাপক পরিবর্তন বিশেষ করে লবণাক্ত বৃদ্ধিতে উপজেলায় ঢোলকড়মিসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ বিলুপ্ত হচ্ছে। এছাড়া আবাদি জমিতে অপ্রকল্পিতভাবে লবণ পানির ঘের ও জলাশয় তৈরি করার জন্য বিভিন্ন প্রকার গাছপালা বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে।
মেইল: bangladeshsokal@gmail.com, web: www.bd-sokal.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ সকাল. All rights reserved.