
রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর গিড়িয়ারপাড় দাখিল মাদ্রাসার দূর্নীতিবাজ সুপার জালাল উদ্দিনের বহিস্কার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৮ নভেম্বর সোমবার বিকাল ছাত্রছাত্রী অবিভাবক ও এলাকাবাসীর আয়োজন উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,গত ২০১৪ সালে সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে যোগদান করার পর দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছেন সুপার জালাল উদ্দিন। সুপার জালাল উদ্দিন ও সাবেক সভাপতি আজিজ আল ইমরানের যোগসাজসে ৫টি পদে নিয়োগ বাণিজ্যে ৪৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে জমি বন্ধক (বর্গা) বাবদ প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায় সরকারি বরাদ্দের প্রনোদনার ৫ লাখ টাকা পেলেও শুধু মাত্র শিক্ষকদের ২০% টাকা দিয়ে বাকী ৪ লক্ষ টাকা এবং প্রতিষ্ঠানের সেশন ফি, পরীক্ষার ফি সহ প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে সুপার জালালের বিরুদ্ধে।
নৈশ্য প্রহরী মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত ১২সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে এম এল এস এস (পিয়ন ) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 'দৈনিক আখিরা' পত্রিকায় প্রকাশ করলে আমি উক্ত পদে আবেদন করি এবং পরিপত্র পরিবর্তন সাপেক্ষে ৪ মার্চ ২০১৪ সালে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে নৈশ্য প্রহরী পদে যোগদান করি এবং আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করে আসছি। জনবল কাঠামো ২০১৮ (সংশোধিত) ২০২০ অনুযায়ী প্রতিটি দাখিল মাদ্রাসায় আরো ২ টি নতুন পদ সৃষ্টিত হয়।যার ১টি পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও অপরটি আয়া পদে নিয়োগ দিতে পারবে প্রতিষ্ঠান কিন্তু সুপার জালাল উদ্দিন বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নীতিমালা বহির্ভূত ও গোপনেই গত ১ নভেম্বর ২০২০ সালে নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ প্রদান করেন । এরপর আবারো একই কৌশলে গোপনে সভাপতি ও সুপার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ১৭ জুলাই ২০২৪ তারিখে পূণরায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীর স্থালে নৈশ্য প্রহরী পদে আব্দুর রাজ্জাক নামক জনৈক ব্যক্তিকে নিয়োগ প্রদান করেন যা নীতিমালা বহির্ভূত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ নিয়োগ প্রদান করে এমপিও 'র জন্য অধিদপ্তরে পাঠালে নীতিমালা বহির্ভূত হওয়ায় আব্দুর রাজ্জাকের এমপিও হয়নি। নৈশ্য প্রহরী মনোয়ারুল ইসলাম অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়োগ বাতিলে জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
উল্লেখ্য,সুপার জালালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি অভিযোগে গত ৭ নভেম্বর এলাকাবাসী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ তার অপসারণ ও শিক্ষার্থীদের প্রণোদনার টাকার দাবিতে সুপারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিকেলে গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশ সুপার জালালকে উদ্ধার করেন ।
মেইল: bangladeshsokal@gmail.com, web: www.bd-sokal.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ সকাল. All rights reserved.