
তাওহীদুল ইসলাম শুভ, পাথরঘাটা (বরগুনা)॥ বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি মো. সোহাগ সিকদারের বিরুদ্ধে মোটর সাইকেল চুরির অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় উত্তেজিত জনতার গনধোলাইয়ের শিকার হলে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
রোববার সন্ধা ৮ টার দিকে পাথরঘাটা থানা পুলিশ গিয়ে সোহাগকে উদ্ধার করে। এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গনধোলাইয়ের শিকার হন সোহাগ। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়া ঘটসার সত্যতা নিশ্চৎ করেছেন।
সোহাগ সিকদার কালমেঘা ইউনিয়নের গোলবুনিয়া এলাকার বাদল সিকদারের ছেলে এবং একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ সিকদার আওয়ামী শ্রমিক লীগের নেতা দাবি করে প্রভাব বিস্থার করে আসছে। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই মারধর এবং মাদক দিয়ে হয়রানী করে। গত শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে হৃদয় নামের এক ব্যাক্তির একটি মোটরসাইকেল তার বাড়ির সামনে রেখে বাড়িতে গেলে সেখান থেকে চুরি করে নিয়ে যায়। স্থানীয় একাধিক লোকে দেখলেও সোহাগ স্বীকার করেনা। পরে রাত ৯টার দিকে হৃদয়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে পাশ্ববর্তী উপজেলা মঠবাড়িয়া থেকে মোটরসাইকেলটি ফিরিয়ে দিয়ে যায়। এ ঘটনার পর আজ রোববার বিকেলে উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে গনধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে দিয়ে দেন। এর আগে গত ৩ মাস আগে কালমেঘা ইউনিয়নের ছোনবুনিয়া এলালার মুন্নি বেগমের বাড়িতে চুরি করে ২০ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইনসহ অনান্য মালামাল নিয়ে যায়, তখন তাকে চিনে ফেলায় মুন্নিসহ তার স্বামীকে মারধর করে রক্তাক্ত করে রাস্তায় ফেলে রাখে।
ভুক্তভোগী মুন্নি বেগম জানান, সোহাগ সিকদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্থার করে আসছে। সে এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে চুরি, মোটরসাইকেল চুরিসহ লোকজনকে হয়রানী করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে মারধরসহ হয়রানী করে আসছে।
মোটরসাইকেল ড্রাইভার হৃদয় জানান, গত শুক্রবার তার মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে গেলে পরে রাতে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ফেরত নিতে হয়েছে। আমার গাড়িটি সোহাগ নিয়েছে তাও কিছু বলতে পারিনি। তাকে কেউ কিছু বললেই মারধরের শিকার হতে হয়। তাছারা শুনেছি তার পিছনে রাজনৈতিক নেতারা তাকে সেল্টার দেয় তাই কেউ কিছু তাকে বলতে পারে না।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়া জানান, সোহাগ একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। সে পারেনা এমন কিছু নেই। সে দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি, মানুষের বাড়িতে চুরি এবং তার এলাকায় মাদক সরবরাহ করে আসছে। তাকে কেউ কিছু বললেই বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের নাম বলে পার পেয়ে যায়। আশা করছি এবার প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।
এ বিষয়ে পাথর ঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহ আলম হাওলাদার জানান, সোহাগের বিরুদ্ধে আগেই মোটরসাইকেল চুরির মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে আটকের জন্য খুঁজতেছিল। এর মধ্যেই জনতা আটক করে তাকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
মেইল: bangladeshsokal@gmail.com, web: www.bd-sokal.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ সকাল. All rights reserved.