
মাহবুবুর রহমান জ্যোতি সিরাজগঞ্জ॥ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মাইঝবাড়ি ইউনিয়নের ছালাভরা গ্রামে গড়ে উঠেছে ফার্নিচার শিল্প। গত ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা এই ফার্নিচার শিল্পের সঙ্গে জড়িত গ্রামটির প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ। এরই মধ্যেই গ্রামটি ফার্নিচার গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে গ্রামে শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত হাজার হাজার বেকার যুবকদের। এখানকার উৎপাদিত ফার্নিচার পণ্যের চাহিদা রয়েছে দেশের নানা প্রান্তে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ কাটছে কাঠ, কেউ কাঠের ওপর করছে নকশা কেউবা আবার রংতুলি নিয়ে ব্যস্ত। সিরাজগঞ্জে যমুনা নদী তীরবর্তী কাজিপুর উপজেলার মাইঝবাড়ি ইউনিয়নের গ্রাম ছালাভরা। আর এই পুরো গ্রামের মানুষই এই কাঠের কাজের সঙ্গে জড়িত। একসময় এই গ্রামে তেমন কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ মানুষই কাজের তাগিদে অন্য জেলায় গিয়ে কাজ করে সংসার চালাতেন।
কিন্তু প্রায় ৪০ বছর ধরে এই ছালাভরা গ্রামে গড়ে উঠেছে কয়েকশ’ ফার্নিচার তৈরির কারখানা। প্রতিদিন ভোর থেকেই কাঠের খট খট শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম। এমন দৃশ্য গ্রামটির প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই। যে কারণে গ্রামটি এরই মধ্যেই ফার্নিচার গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রামে কয়েকশ’ ছোট বড় কারখানায় তৈরি হচ্ছে খাট, ড্রেসিং টেবিল, সোফা সেট, আলমারি, সোকেসসহ বিভিন্ন রকমের ফার্নিচার। আর প্রতিটি ফার্নিচারেই রয়েছে কারুকার্যময় বাহারি নকশা। কম দামে ভালো মানের ফার্নিচার পাওয়ায় এর চাহিদা দেশজুড়ে। এখানকার তৈরি ফার্নিচার চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজার হাজার যুবকের।
তবে ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে শিল্পটির আরও প্রসার ঘটানো সম্ভব। আর কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী জানান, ফার্নিচার শিল্পটির প্রসারে উপজেলার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার দেয়া হবে। সেইসঙ্গে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।
সিরাজগঞ্জের এই ফার্নিচার গ্রামে ছোট বড় মিলে প্রায় ৪০০ কারখানা রয়েছে। এখানে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ফার্নিচারসামগ্রী।
মেইল: bangladeshsokal@gmail.com, web: www.bd-sokal.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ সকাল. All rights reserved.