মোঃ আনোয়ার হোসেন, ডিমলা(নীলফামারী)॥ প্রমত্তা তিস্তার ধু-ধু বালুচর এখন সবুজের সমারোহ । যতদূর চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। আর এ চকচকে বালুতে রবিশস্য চাষ করে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন তিস্তা পাড়ের কৃষকরা।
নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা হাজার হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের রবি শস্য চাষ করা হচ্ছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সাথে নুড়ি পাথর, কাকনযুক্ত বালি ও মাটি বয়ে আসায় দ্রুত তিস্তার তলদেশ ভরাট হয়ে গিয়ে অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। বালুর সাথে পলি মাটির স্তর পড়ে এসব চরকে আবাদী করে তুলছে। পলি মিশ্রিত এসব চরে ভুট্টা, কাউন, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, বরবটি, মিষ্টি আলু, বাদাম, করলা, বেগুন, পুঁই শাক, লাউ শাক সহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষের ধুম পড়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এসব চরে রবিশস্য চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। আর তাই যতদুর চোখ যায় এসব চরাঞ্চল শুধু সবুজ আর সবুজ।
চরঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জনা গেছে, গত বর্ষা মৌসুমে তিস্তার চরে আমন ধান চাষ হয়নি। আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এলাকার কৃষকেরা তিস্তার চরে বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য চাষ করেছেন।
ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা চর এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, ধান, গম আবাদ করলে যে লাভ হয় তার চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হয় রবিশস্যে। বিশেষ করে ভুট্টা চাষ করে বেশি লাভ হয়ে। প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৪৫ মণ পর্যন্ত ভুট্টা হয়। যার মূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। আর ব্যয় হয় বিঘা প্রতি ১০-১২ হাজার টাকা। ভুট্টা ঘরে তোলার সময় পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সব ভুট্টা চাষি বেশ লাভবান হবেন।
তিস্তা নদীর কেল্লাপাডা এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, আগে তিস্তার চরাঞ্চলের জমিগুলো পতিত ছিল। অন্য ফসলের আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় এসব জমিতে ফসল ফলানো হয়নি। এখন আধুনিক পদ্ধতিতে এসব চরে বিভিন্ন ফসল চাষ করা হচ্ছে। এতে ভালো ফলন এবং দামও পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।এ উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চল গুলোতে এ বছর রবিশস্যের ব্যাপক চাষ হয়েছে। পরিবেশ অনুকূলে থাকায় প্রতিটি চরাঞ্চলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়ন তিস্তা ও বুড়ি তিস্তা নদী বিধ্বস্ত। এই ৪টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের চরের জমিতে বিভিন্ন প্রকার রবি শস্যের চাষ করেছেন। রবি শস্যকে ঘিরে নদী গর্ভে নিঃস্ব হওয়া হাজার হাজার মানুষ এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। তিস্তার নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় জেগে উঠা ছোট বড় চরগুলোয় নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলো বাঁচার তাগিদে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ধুধু বালু চা। আর এসব চরে কৃষকেরা এখন রবি শস্য চাষ করে জীবিকার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছেন। এক্ষেত্রে এসব চাষীদের বিনামূল্যে সার-বীজ দিয়ে সহায়তাও করা হয়েছে। গত বন্যায় আমন ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় যে সমস্ত জমি পতিত ছিল সেগুলোতে আগাম জাতের রবিশস্য চাষ করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হয়ে আগাম জাতের বিভিন্ন চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার জানিয়েছে, তিস্তার বুক চিরে জেগে ওঠা চরগুলোতে পলি মিশ্রিত মাটি থাকায় এগুলোতে পেয়াজ, রসুন, ভুট্টা, কাউন, মিষ্টি কুমড়া, বাদাম, মিষ্টি আলুর ফলন বেশ ভালো হয় তাই কৃষকরা এসব ফসল চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কম খরচে অধিক ফলন পাওয়ায় এবং লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা আবাদের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন কৃষকরা।




















