মোঃ আবদুল আলিম, পটুয়াখালী জেলা॥ প্রতি বছরের ন্যায় মহা উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ অনুষ্ঠিত হলো পটুয়াখালী জেলা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলার সুযোগ্য জেলা প্রসাশক মহোদয় এবং বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক মহোদয়।
অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে ছিলো খেলা ধুলা ও দ্বিতীয় পর্বে ছিলো নৃত্য, গান, আবৃত্তি ও নানান ধরনের বিনোদনে ভরপুর সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠান।
সকাল থেকেই বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অবিভাবক গন নানান বর্নের পোষাকে সজ্জিত হয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনকে মুখোরিত করে তোলে।
সন্ধার পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরন করেন পটুয়াখালী জেলার সুযোগ্য জেলা প্রসাশক মহোদয়।
পুরুস্কার বিতরনের পূর্বে জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পড়া লেখায় মনযোগী ও অধ্যাবসায়ী হতে বলেন।
কারন হিসেবে তিনি বলেন,”আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের চালিকা শক্তি হব।” দেশ চালকের ভুমিকায় সামনের কাতারে যারা থাকবে, তাদের মধ্যে বড় একটা অংশ যেন এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা থাকে, তিনি এই প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।
উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে তৎকালীন পটুয়াখালী জেলার সুযোগ্য জেলা প্রসাশক মোঃ শামিমুজ্জামান মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা হয়ে ছিলো অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে পটুয়াখালীতে ভাল মানের কোন বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিলো না। যার কারনে এতো বড় একটা পুরাতন জেলার লক্ষ লক্ষ শিক্ষাত্রীদের লেখা পড়া করতে গিয়ে নানা রকম ভোগান্তির শিকার হতে হত।
অত্র প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পূর্বে পটুয়াখালী সরকারি জুবীলী উচ্চ বিদ্যালয় ও পটুয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, এই দুটি বিদ্যালয়ের উপরে এ জেলার সকল উচ্চাকাংখী শিক্ষার্থীদের নির্ভর করতে হত ।
সেখানে ভর্তি হওয়া ছিলো সোনার হরিন হাতে পাওয়ার মতো। তার কারন প্রতি বছর হাজার হাজার ছেলে-মেয়েরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতো, সেখান থেকে অতি সামান্য সংখ্যক ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেত।
এই স্কুল প্রতিষ্ঠার পর অনেক শিক্ষর্থী এখানে ভর্তি হয়ে সুশৃংল ভাবে, ভাল পরিবেশে পড়া লেখার সুযোগ পেয়েছে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, স্কুলটি প্রতিষ্ঠা লগ্নে তৎকালীন জেলা প্রসাশক মহাদয় শিক্ষক নিয়োগের সময় নিয়োগকৃত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদর জন্য নিয়ম করে দিয়েছিলেন, এই প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক-শিক্ষিকা কোন রকম প্রাইভেট পড়াতে পারবে না।
যদি কেউ প্রাইভেট পড়ায় তা হলে ঐ শিক্ষক/শিক্ষিকা অত্র স্কুলে পাঠদানে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিৎ হবে।
এর পর প্রায় ২ বছর এ নির্দেশ মেনে চললেও,উক্ত জেলা প্রশাসক জনাব শামিমুজ্জামান অনত্র চলে যাওয়ার পর থেকে এখানেও শুরু হয় অবাধ প্রাইভেট বানিজ্য।
এই প্রাইভেট বানিজ্য এতোটাই চরমে পৌছে যে অত্র শহরের অন্য দুটি সরকারী স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট বানিজ্যের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।
অত্র স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে তাদেরকে পরীক্ষায় নাম্বার কম দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে অনেক অবিভাবকগন বর্তমান জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেন, যাতে বিদ্যালয়টির সুনাম ও ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন থাকে।




















