বাংলাদেশ সকাল ডেস্ক: চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা ও পরবর্তীতে সরকার বিরোধী আন্দোলনে রুপ নেওয়া বিরোধীজোটকে মাঠে ঠেকাতে ব্যর্থ ও নিষ্ক্রিয় থাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর আ.লীগের মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর থানার ১০৮টি ইউনিট কমিটির মধ্যে ২৭টি ইউনিট কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বিকাল থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় মোহাম্মদপর সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অন্তর্গত ঢাকা-১৩ আসনের তিন থানা ও ওয়ার্ড নেতাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় এসব কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়।
সভায় ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ ফজলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রানা, স্থানীয় কাউন্সিলরগণ, থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অন্তর্গত মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর থানার ২৭টি ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা আন্দোলন মোকাবিলায় সরাসরি অংশ নেননি বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসব ইউনিটের কমিটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
অন্যদিকে দুপুরে ঢাকার তেজগাঁওয়ে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে একটি সমন্বয় সভা করেন দলটির নেতারা। সেই সভার পর কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ওই কার্যালয়ে নিজ কক্ষে বসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সে সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংঘাত, সহিংসতা প্রতিরোধে দলের ব্যর্থতা নিয়ে তর্কে জড়ান যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান। তাদের তর্ক ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত গড়ায়।
পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িক সময়ের জন্য শান্ত হলেও থেমে থেমে চলে হট্টগোল। একপর্যায়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শীর্ষ ওই নেতা যুবলীগের শীর্ষ নেতাকে বেয়াদব বলায় তিনি উচ্চ স্বরে তেড়ে এসে কথা বলতে থাকেন। এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা ওই দুই নেতাকে নিবৃত্ত করেন বলে দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
পরে সভা সমাপ্ত ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আপনারা কারা মাঠে ছিলেন আর কারা মাঠে ছিলেন না, আমাদের কাছে সব তথ্য আছে। আপনারা দলের পদে থেকে ঘরে বসে থাকবেন? দলের খারাপ সময়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখবেন? তা হতে পারে না। যারা মাঠে ছিলেন না, তাদের তালিকা হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তালিকা ধরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সভায় উত্তর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা উদ্দেশ্য নিয়ে আজকের সভা করেছি। কিন্তু আপনাদের যে উপস্থিতি, তাতে আমাদের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। আমরা আরো উপস্থিতি আসা করেছিলাম।’ এ সময় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। পরে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে সভাস্থাল ত্যাগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ঢাকা-১৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কার্যালয়ে হামলা হয়। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি। এমনকি দলীয় নির্দেশ থাকলেও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের অবস্থান দেখা যায়নি। সাংগঠনিক দুর্বলতায় সরকার বিরোধীরা আধিপত্যের সুযোগ পেয়েছিলেন বলে মনে করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।




















