মীর দিনার হোসেন : বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ভুয়া কাউন্সিলকে বৈধতা দেয়ায় সাবেক নির্বাচন কমিশনের বিচার চেয়েছেন মুক্তিজোটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি/সংগঠন প্রধান রাজু শিকদার।
গত ৩০শে অক্টোবর, বুধবার নির্বাচন কমিশনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ত্রয়োদশ জাতীয় কাউন্সিল-২০২৪ এর রিপোর্ট-রেকর্ড সহ ৭৭ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের এ কথা বলেন আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার মুক্তিজোটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি/সংগঠন প্রধান।
এ সময় তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন দলটি ২০১৩ সালে নিবন্ধন প্রাপ্তির পর ২০১৪ এর নির্বাচন বয়কট করে এবং ২০১৮ সালে নিবন্ধনগত শর্তে মাত্র দুটি আসনে প্রার্থী দিয়ে কার্যত নির্বাচন বয়কট করে; সবশেষে ২০২৪ সালে গত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে কতিপয় নেতৃত্ব সভাপতিকে না জানিয়ে, সভাপতির অনুপস্থিতিতে একটি ভূঁয়া কাউন্সিল করে এবং হাবিবুল আউয়াল কমিশন মারফত গঠনতন্ত্র বিরোধী সেই ভূঁয়া কাউন্সিলকৃত অবৈধ কমিটির বৈধতা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়া গত আওয়ামী সরকারটি কেবল মানুষের ভোটাধিকার লুন্ঠন করেনি বরং দায় মুক্তির আইন করে হাবিবুল আউয়াল কমিশন বসিয়ে- সংসদীয় গণতন্ত্রের অনিবার্য শর্ত যে বহুপথ বহুমতের রাজনৈতিক দল সমূহ তাকেও কামড়ে ধরেছিলো।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৮ই অক্টোবর মুক্তিজোটের সভাপতি এ আর এম রাজু শিকদারের সভাপতিত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় জননেতা আ.স.ম আব্দুর রব, ড. রেজা কিবরিয়া, কমরেড তানিয়া রব প্রমুখদের উপস্থিতিতে সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীণ জননেতা ড. কামাল হোসেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। এরই মধ্যে কোভিড-১৯ হানা দেয়ার প্রেক্ষিতে ‘ঢাকা লক ডাউন’-এ পার্টি প্রধান এ আর শিকদার নিজ গ্রামের বাড়িতে গেলে তাঁকে আর ঢাকায় ফিরতে দেয়া হয়নি; ২০২১ এর ২২শে জানুয়ারী থেকে গত ‘স্বেচ্ছাচারী আওয়ামী সরকার’ অঘোষিতভাবে প্রায় তিন বছর তাঁর নিজ বাড়িতে কার্যত অবরুদ্ধ রাখে।
অবিলম্বে- ফ্যাসিস্ট সরকারের নীল নকশা বাস্তবায়নকারী হাবিবুল আউয়াল কমিশনকে বিচারের মুখোমুখী করা হোক। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ‘ত্রয়োদশ জাতীয় কাউন্সিল-২৪’ রিপোর্ট-রেকর্ড ও কমিটি জমা দিতে এসে উপস্থিত নেতৃত্ব উক্ত দাবি তোলেন।
মুক্তিজোটের সংগঠন প্রধান এ আর এম রাজু শিকদার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্বাচনকালীন সংস্কারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন ‘গণবিচ্ছিন্ন একটি সরকারের অধীন থাকায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তার স্বাভাবিকত্ব হারিয়েছে। তাই সংস্কার না করে নির্বাচন দিলে, বিশেষত নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাসীন দলনিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সক্ষম না করলে এদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বারবার গণবিচ্ছিন্ন স্বৈরাচার সরকারের উদ্ভব ঘটবে।’
এসময় নির্বাহী প্রধান মোঃ মামুন রেজা, জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান মোঃ এনামুল হক সহ মোঃ আব্দুল কাইউম, মোঃ সোহেল রানা, আসিফ ইকবাল, মোঃ হামিদুল আল-আমিন, মোঃ শাকিল আহাম্মদ শিমুল, প্রমুখ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।




















