চট্টগ্রাম সংবাদদাতা: চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহজাহান বাদশা তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল, পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে অবশ্যই যথাযথভাবে সত্য যাচাই-বাছাই করা উচিত। আপনারা জাতির চোখ এবং দেশের মানুষের বিবেক। সাংবাদিকদের উচিত তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করে সংবাদ প্রকাশ করা।”
মোঃ শাহজাহান বাদশা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের স্বেচ্ছাসেবক অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পরিবারও বংশগতভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্য তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এ সময় তিনি বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারেননি, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি এবং দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। এতে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বিভিন্ন ঘটনায় তার নাম জড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল আলীনগর এলাকায় আমি কখনো প্রবেশ করিনি। ওই এলাকার কোনো কর্মকাণ্ডে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রশাসন ওই এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়েছে, অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং অনেককে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। আমি এসব ঘটনা পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনের মাধ্যমে জেনেছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য শুধু তার ব্যক্তিগত সুনাম নষ্ট করা নয়, বরং বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনীতি ও দলের আদর্শকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা।
সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তারপর সংবাদ প্রকাশ করুন। যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা প্রকাশ করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করলে তা একজন মানুষের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে।”
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি একটি মহান পেশা এবং এর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক রাজনৈতিক কর্মীর দায়িত্ব। তিনি সবসময় অন্যায় ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করবেন। “আমি কখনো অন্যায়কে আশ্রয় বা প্রশ্রয় দিইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না। যদি কখনো আমার বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, সেদিনই রাজনীতি ছেড়ে দেব।”
শাহজাহান বাদশা তার রাজনৈতিক জীবনকে সৎ ও ন্যায়ের প্রতি উৎসর্গীকৃত বলে উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সাংবাদিক সমাজ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবে এবং সত্য যাচাই করে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা চর্চা করবে।




















