মোঃ তরিকুল ইসলাম সুজন :
কেশবপুরে নাবালিকা ১৪ বছরের মেয়ে মায়শা আক্তার মাহিকে জোরপূর্বক অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
পরিবার ও মামলা সুত্রে জানা যায়, মেয়ের মা মোছাঃ তানিয়া খাতুন লোকমারফত জানতে পারেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ৩ টার সময় তার মেয়ে মাইশা আক্তার মাহি (১৪), কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী স্কুল থেকে ফেরার পথে পোষ্ট অফিসের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে ছিলো। উক্ত সময় মোঃ রাকিব হোসেন (২৮), পিতা মোঃ হাফিজুর রহমান, সাং- সাবদিয়া ০৩ নং মজিদপুর ইউনিয়ন থানা কেশবপুর জেলা যশোর সহ অজ্ঞাত চার পাঁচ জন তার মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে চলে যায়।
এ ঘটনার পর মাহির মা প্রাথমিকভাবে রাকিবের বাসায় খবর নিতে যায়। রাকিবের পরিবার থেকে জানায় রাকিব বাসায় নেই তার খবর তাহারা জানে না। তখন মাইশা আক্তার মাহির মা কেশবপুর থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে আদালতে মামলা করতে বলে।
এর প্রেক্ষিতে, গত ৯ মার্চ মোছাঃ তানিয়া খাতুন বাদী হয়ে বিজ্ঞ বিচারক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল -১ যশোর মোকাদ্দমা -নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী -২০০৩ এর ৭/৯(১) ধারা অনুযায়ী ১- মোঃ রাকিব হোসেন (২৮), পিতা মোঃ হাফিজুর রহমানকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।
বাদী মোছাঃ তানিয়া খাতুন মামলায় উল্লেখ করেন, মেয়ে মাইশা আক্তার মাহি স্কুলে যাওয়া আসার পথে বিভিন্ন সময় আাসামী রাকিব ভিকটিমকে উত্যক্ত করত। বিষয়টি মাহি তার বাসায় জানালে মাহির পরিবারের লোকজন রাকিবের বাবা মা কে জানালে তারা বলল আপনার মেয়েকে আমাদের বাসায় যদি রাকিব নিয়ে আসে তাহলে আমরা আপনাদের নিকট আপনার মেয়েকে ফেরত দিবো।
সেই বিশ্বাসে মেয়ের পরিবার বাসায় চলে আসে কিন্তু মেয়েকে ফেরত পায়না মেয়ের পরিবার। পরবর্তীতে গোপন সংবাদ মারফত শুনতে পারে তার মেয়ে রাকিবের বাসায় আছে। এর প্রেক্ষিতে গত ৭ মার্চ তারিখ বেলা আনুমানিক ১২ টার সময় সকল স্বাক্ষীদের নিয়ে আসামীর বাসায় যেয়ে তাহার কন্যাকে ফেরত চাইলে আসামীর বাবা মা ভিকটিমকে ফেরত দিতে অস্বীকার করেন এবং বাদীকে হুমকি দিয়ে জানান এ বিষয়ে কোন মামলা করলে তার কন্যাকে হত্যা করে লাশ গুম করে দিবে। উল্লেখ্য রাকিবের ঘরে স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে।
পরবর্তীতে গত ইং ১১/০৩/২৫ আনুমানিক ৫:৩০ ঘটিকার সময় বাদী তার উকিলের সঙ্গে পরামর্শ করে সাক্ষীদের নিয়ে যশোর থেকে কেশবপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইজিবাইকে রওনা দিলে যশোর মনিরামপুর মহাসড়ক রাজারহাট রেল ক্রসিং এর কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামিগণ তাদের উপর আক্রমণ চালায় এবং মামলা প্রত্যাহার করতে চাপ সৃষ্টি করে হুমকি প্রদান করে চলে যায়।
এ ঘটনায় বাদী মোছাঃ তানিয়া খাতুন পুনরায় ইজিবাইক ব্যাক করে কোতোলী মডেল থানায় হাজীর হইয়া ০৪ জনকে আসামী করে একটি সাধারণ ডায়েরি করে।
আসামীরা হলেন ১/রাকিব হোসেন (২৮) পিতা মোঃহাফিজুর রহমান ২/মোঃ হাফিজুর রহমান (৫০)পিতা আফসার গাজী ৩/রাবেয়া বেগম (৪৫) জং হাফিজুর রহমান সর্বসাং সাবদিয়া ৩ নং মজিদপুর ইউনিয়ন ৪/ নজরুল ইসলাম (৪৮) পিতা দাউদ মোল্লা সাং মধ্যকুল সর্ব থানা কেশবপুর জেলা যশোর।
বাদী মোছাঃ তানিয়া খাতুন তাহার নাবালিকা মেয়ে মাইশা আক্তার মাহির (১৪) অপহরণকারী ধর্ষক রাকিবের নিকট হতে মেয়েকে উদ্ধার করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তিনি আশংকা করছেন, যে কোন মুহূর্তে তাহার মেয়ের বড় কোন ক্ষতি হতে পারে।




















