আবু ফাত্তাহ্ কামাল পাখি ডোমার (নীলফামারী)প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শ্রেণিকক্ষ পরিণত হয়েছে প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত থাকার ঘরে।
জানা যায়, ডোমার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ দুররুল আনম সিদ্দিকী বিদ্যালয়ে দায়িত্বগ্ৰহণের পর থেকে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণীকক্ষে বসবাস করছেন।
বিদ্যালয়ে ওই শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চ দিয়ে বানানো হয়েছে খাট। খাটে চাদর ও বালিশ বিছানো আছে। টেবিলে রাখা খাবার ও পানীয় পাত্র। পাশেই দড়িতে ঝুলে আছে শুকানো কাপড় এবং জানালায় ঝোলানো হয়েছে পর্দা। বিদ্যালয়ের ভেতরে এমন চিত্র দেখে স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায় – “স্যার, বিদ্যালয়ে আসার পর থেকেই শ্রেণীকক্ষে থাকছে। অফিস শেষে তিনি এখানেই বিশ্রাম নেন এবং রাত কাটান।”
মনোয়ার হোসেন নামে একজন অভিভাবক বলেন – ”এটা সরকারি স্কুল, এখানে ব্যক্তিগতভাবে থাকার বিষয়টি অনুচিত। প্রশাসনের এ ব্যাপারে নজর দেওয়া উচিত।”
শ্রেণীকক্ষে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন শিক্ষক আব্দুর রশিদ ও শিক্ষিকা রোকসানা আক্তার। তারা বলেন প্রধান শিক্ষক ওই শ্রেণীকক্ষে থাকেন। শ্রেণীকক্ষের থাকার নিয়ম আছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই। ওই রুম তার জন্য বরাদ্দ কিনা আমরা তাও জানিনা”
এপ্রসঙ্গে ডোমার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোঃ দুররুল আনম সিদ্দিকী সঙ্গে কথা হয়। তবে এবিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।
প্রধান শিক্ষকের সব বিষয়ে অবগত বলে জানান, জেলা কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুল রহমান। কিন্তু এ ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
এবিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সায়শা সাঈদ তন্নী বলেন – “উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
ক্লাসরুম থাকার কোনো নিয়ম নেই বলে জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক(ভারপ্রাপ্ত) মোছাঃ রোকসানা বেগম।
তিনি বলেন – “এই বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অশ্লীল মেসেজ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।




















