কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসদরের মেয়ে তাহমিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। মেয়ের এমন খুশির খবর শুনে মুখে হাসি নেই ভ্রাম্যমাণ ফল ও কলা বিক্রেতা মোঃ মিজানুর রহমানের। অভাবের সংসারে যেখানে দুবেলা ঠিকমত খাবার যোগাতেই হিমশিম খেতে হয় তাদের, সেখানে ঢাকায় বাসা বা হোষ্টেলে রেখে মেয়েকে কিভাবে পড়ালেখা করাবেন দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। এ কথা জেনে মেধাবী ছাত্রী তাহমিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল উদ্দিন পি পি এম।
সোমবার (১ এপ্রিল) রাতে তাহমিনা ও তার বাবা মাকে থানায় ডেকে এনে ফুল দিয়ে বরণ করেন ওসি কামাল উদ্দিন। এসময় ওসি তাহমিনার হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন। আগামীতে তাহমিনার পড়াশোনায় সব রকমের সহযোগিতারও প্রতিশ্রুতি দেন ওসি কামাল উদ্দিন।
ওসি কামাল উদ্দিন প্রতিনিধি কে বলেন, আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেয়েছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে তাহমিনা। কিন্ত আর্থিকভাবে তাঁর পরিবার খুবই অস্বচ্ছল। এ মেয়ে ভবিষ্যতে দেশ গড়ার নেতৃত্ব দিবে। তাকে উচ্চ শিক্ষা নিতে হবে। আগামীতে তার পড়াশোনার জন্যে যত রকম সহযোগিতা প্রয়োজন আমি করবো ইনশাআল্লাহ।
তাহামিনা সীতাকুণ্ড পৌর সদরের দক্ষিণ ইদিল পুর গ্রামের ভ্যান গাড়ি করে ফল, কলা বিক্রেতা মিজানের মেয়ে। সে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ‘বি’ ইউনিটে ১৮১তম ও ‘সি’ ইউনিটে ৩১২তম স্থান অর্জন করেছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় ‘ডি’ ইউনিটে ৭৯তম এবং ‘বি’ ইউনিটে ৪৫৪তম হয়েছেন।
তাহমিনা ২০২১ সালে সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। এরপর ২০২৩ সালে একই বিভাগে সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেন। সীতাকুন্ড সরকারী মহিলা কলেজের একাধিক শিক্ষকগন প্রতিনিধিকে বলেন, দারিদ্র্যতা তাহমিনাকে কাবু করতে পারেনি, সে সবগুলো ক্লাশেই প্রথম কাতারে ছিলেন, আমরা তাঁর উচ্চ শিক্ষা লাভের আশা বাদী।




















