কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের সরসপুর মধুমতি আদর্শ বিদ্যালয়ের নতুন ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনিয়ম ও ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আগামীকাল ১১ মে (শনিবার) এ নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে জানা যায়। প্রকৃত ভোটারদের বাদ দিয়ে এবং অন্য স্কুলে নিয়মিত একাধিক শিক্ষার্থীর পিতাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তিসহ মাধ্যমিক বেসরকারী শিক্ষা বোর্ডের আদেশ অমান্য করে ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন সরসপুর গ্রামের প্রবাসী ফারুক আহমদের স্ত্রী আসমা খানম।
বিগত ৬ মে ওই স্কুলে সভাপতি এম মোস্তাক আলী সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান, শিক্ষক সদস্য, অভিভাবক সদস্য, দাতা সদস্য, জেলা শিক্ষা অফিসার ও বোর্ড চেয়ারম্যান, একাডেমিক সুপারভাইজার সারাফত হোসেনসহ ২২জনতে আসামী করে এ মামলা দায়ের করেন তিনি।
আগামী ১১ জুলাই বিজ্ঞ আদালত আসামীদের সমন জারী করেছেন। এ ঘটনায় এলাকা ও অভিভাবক মহলের ভিতর দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম শেষ হওয়ায় নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন কল্পে ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে ১১ মার্চ অনুমোদন করেন সভাপতি, প্রধান শিক্ষক ও সদস্য সচিব। মাধ্যমিক স্কুল কোড বা পরিপত্রের নির্দেশ অনুযায়ী খসড়া তালিকা প্রতি ক্লাসে পাঠ করে শোনানো এবং নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে রাখার কথা থাকলেও তারা সেটা না করে নিজেদের সুবিধা মতো বিবাদী স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের যোগসাজসে এক ভুয়া ভোটার তালিকা অনুমোদন করে ২৩ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল মনোনয়ন পত্র বিতরণ ও জমাদান, ২৮ এপ্রিল বাছাই ২৯ এপ্রিল প্রত্যাহার এবং ১১ মে নির্বাচনের দিন ধার্য্য করেন।
বিবাদী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এম এম সারাফত হোসেন প্রিজাইডিং অফিসার নিযুক্ত হন।
মাধ্যমিক বেসরকারী শিক্ষা বোর্ডের আদেশ মতে কোন শিক্ষার্থীর পিতা বাংলাদেশের বাহিরে কর্মরত থাকলে তার মাতাকে অভিভাবক গন্য করে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। অথচ একাধিক প্রবাসীকে ভোটার তালিকায় স্থান দিয়ে তাদের স্ত্রীদের বাদ রাখা হয়েছে বিবাদীদের যোগসাজসে। বাগুডাঙ্গা সিএমবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সিয়ামের বাবা কবির হোসেন অত্র স্কুলের ২৫৯ নং ভোটার এবং ২২৪ নং ভোটার হিসাবে রয়েছেন গোপালগঞ্জ সরকারী টেকনিক্যাল স্কুলের ছাত্র ইরফান মাহমুদের পিতা মোস্তফা মাহমুদ। এছাড়া খন্ডকালীন ১০ শিক্ষককে ভোটার বানানো হয়েছে।
ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা সংশোধন করে সঠিক তালিকা প্রনয়ন করে নির্বাচন চান সচেতন মহল।
এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ও প্রিজাইডিং অফিসার এম এম সরাফত হোসেন বলেন, আদালতের সমন তিনি পেয়েছেন। তবে আদালত নির্বাচনের ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। তাই নির্ধারিত দিনেই তিনি নির্বাচন সম্পন্ন করতে চান। ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার নির্বাচন বিজ্ঞ আদালত বাতিল করলে পুররায় নির্বাচন হবে।




















