যশোর অফিস : ঋণের কিস্তি দিতে বিলম্ব হওয়ায় যশোরের এনজিও আর্স বাংলাদেশ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে ঋণগ্রহীতা ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার(২৭ সেপ্টেম্বর ) যশোর সদর উপজেলার রামনগরের দক্ষিনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হলেন ঋণগ্রাহক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসের ছেলে শফি বিশ্বাস ও তার স্ত্রী নুর জাহান। গুরুত্বর আহত নুর জাহানকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঋণের কিস্তি নিতে (বুধবার) ব্যবসায়ী শফি বিশ্বাসের বাড়িতে যান আর্স বাংলাদেশ এর কুয়াদা শাখার ব্যবস্থাপক মিনারুল ইসলাম সহ চারজন। সেখানে কিস্তির টাকা বকেয়া রাখায় উভয়পক্ষের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আর্স বাংলাদেশ কুয়াদা শাখায় কর্মরত মিনারুলসহ অন্যরা ঋণগ্রহীতা শফির স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে অশালীন মন্তব্য করতে থাকে। এ সময় নুর জাহান তার স্বামী শফি বিশ্বাসকে বাড়িতে এসে তাড়াতাড়ি টাকা পরিশোধ করতে বলেন। শফি বাড়িতে এসে তার স্ত্রীর কাছে শুনে ম্যানেজারের সাথে তর্কে জড়িয়ে পরেন। একপর্যায় বাড়ির উঠোনে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে ম্যানেজার নুর জাহানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এসে স্বামী শফিও মারপিটের শিকার হন। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে ব্যবস্থাপক মিনারুল কর্মীদের নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে স্বজনরা আহত শফি ও তার নুর জাহানকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শফি বলেন, গত৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ইং তারিখে ১নং আসামীর আর্স বালাদেশ, কুয়াদা বাজার শাখা অফিস হইতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লোন নিয়া কাঠের ব্যবসা শুরু করি। মাসিক ১৫ হাজার টাকা কিস্তির টাকা পরিশোধ করে আসতেছি। আমার এ পর্যন্ত কোন কিস্তি ফেল নাই। ২৭ সেপ্টেম্বর আমার বাড়ীতে ৪জন লোক কিস্তির টাকা নেওয়ার জন্য আসেন। কানায়তলা আমার প্লাস্টিকের কারখানায় কাজে থাকায় আমার স্ত্রী নুর জাহান মুঠোফোনে বাড়িতে এসে কিস্তির টাকা পরিশোধ করার জন্য সংবাদ জানায়। আমি কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য। যশোর কোতয়ালী মডেল থানাধীন রামনগর দক্ষিণপাড়া আমার বাড়ীর উঠানে পৌছাইলে ১নং আসামীর হুকুমে আসামীরা আমাকে বিশ্রী ভাষায় গালি দেয়। আমি গালি দিতে নিষেধ করিয়া আসামীরা ক্ষিপ্ত হইয়া আমার বাড়ীর উঠান হইতে বাঁশের লাঠি নিয়া আমাকে মারপিট করিতে উদ্যত হইলে আমার স্ত্রী ঠেকাইতে চেষ্টা করিলে আসামীরা আমার স্ত্রীকে ১নং আসামী তার হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়া আমার স্ত্রী ডান হাতের বাহুর উপরে আঘাত করে। অন্যান্য ৩ জন আসামী আমার স্ত্রীকে কিল ঘুষি মারতে থাকে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্স বাংলাদেশ কুয়াদা শাখার ব্যবস্থাপক মিনারুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আপনার সাথে পরে কথা বলবো।
আর্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সামসুল আলম সাংবাদিকদের জানান, ঋণগ্রহীতারাই আমাদের লোকদের মেরেছে। এ বিষয় আমারাও একটি অভিযোগ দায়ের করেছি তার তদন্ত চলছে।
অভিযোগ তদন্তকারী কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক তুহিন বাওয়ালী বলেন, কিস্তির টাকা বাকি ছিল সে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে আমি দুই পক্ষকে ডেকেছি তারপরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




















