গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি॥ রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদ মাঠে গত বৃহস্পতিবার প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প-এলডিডিপি ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীর আয়োজনে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতা ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
প্রদর্শনীতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়সারাভাবে প্রদর্শনী আয়োজন করার অভিযোগ তুলেছেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। লক্ষ্য করা যায় আমন্ত্রণপত্রে বেলা ১০ টার সময় প্রদর্শনীর উদ্বোধনের কথা থাকলেও ১২টা ১৭ মিনিটে উদ্বোধন করে দুপুর ৩ টার পরই সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
জানা যায়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রদর্শনীর জন্য ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও গুটিকয়েক খামারিকে নিয়ে উপজেলা পরিষদ মাঠ প্রাঙ্গণে নামমাত্র এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনী উপলক্ষে ছিল না কোন প্রচার প্রচারণা। যার ফলে মেলায় কাঙ্ক্ষিত দর্শকের দেখা মেলেনি। অনুষ্ঠানটির ব্যাপক প্রচারের জন্য ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও অনেকেই বলেন প্রচারের জন্য কোন মাইকিংই শোনা যায়নি। প্রদর্শনী স্থলে ৫০টি স্টল বাবদ বরাদ্দ ছিল ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা কিন্তু প্রদর্শনীতে স্বল্প সংখ্যক খামারিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের খামারিদের সাথে কথা বলে জানাযায় অধিকাংশ খামারি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। প্রদর্শনীতে ৪৪টি স্টল দেখিয়ে স্টলে পশুর পরিবর্তে ঘাস রোপন করা সহ ৬টি স্টল ফাকা রাখা হয়েছিল। অতিথিদের নামে সম্মানী বরাদ্দ থাকলেও তাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানাযায় তারা কোন সম্মানী পায়নি। এছাড়া স্টলে স্থানীয় খামারিদের বাদ দিয়ে পার্শ্ববর্তী কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ থেকে তার পরিচিত খামারিদের নিয়ে আসেন। ৫০ টি পশুর জন্য ২২০ টাকা হারে খাবারের পাত্র বাবদ বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার কিন্তু খাবারপাত্র দেখাযায় মাত্র ১৫ টি। পশুর খাবার বাবদ বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার টাকা দেখা যায় শুধু কিছু ঘাস খেতে দেয়া হয়ছিল। মেলায় নিয়ে আসা পশু- পাখির চিকিৎসা বাবদ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও খামারিদের সাথে কথা বলে জানাযায় বেতগাড়ী থেকে আসা এক খামারির ছাগল অসুস্থ হলেও কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সব বিষয়েই ছিলো প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার জোড়াতালি হিসেব। দুপুরের খাবার বাবদ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও স্থানীয় একটি হোটেল থেকে ৩শ প্যাকেট বিরিয়ানি (প্যাকেট প্রতি ১২০ টাকা ব্যায়) ও আমন্ত্রিত ৩০ জন অতিথির জন্য আলাদাভাবে সবজি, মাছ, মাংসের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানেও গাফিলতি পাওয়া যায়। পানির বোতল স্বল্পতাসহ বিভিন্ন অভিযোগের সাথে ছিল নিম্ন মানের খাবার। এমনকি অনুষ্ঠানস্থলে আসা অনেকেই খাবার না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেছে।
উপজেলা প্রশাসনের এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাখাওয়াৎ হোসেনের যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অফিসে বিলম্বে আসা এমনকি অফিস ফাঁকি দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কয়েকমাস আগে জেন্ডার সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ক খামারিদের প্রশিক্ষণে খামারিদের খাবারের বরাদ্দের টাকা আত্মসাধের অভিযোগে খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রচার হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাখাওয়াৎ হোসেনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কয়েকবার চেষ্টা করার পর ফোন রিসিভ করে কোন সদুত্তর না দিয়ে বরং দাবী করেন সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যাতিত নিজ পকেটের অর্থ খরচ করে প্রদর্শনী তিনি সফল ভাবে পালন করেছেন। প্রদর্শনী উদযাপন কমিটির সভাপতি ও গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ তামান্না আয়োজনে কমতি ছিল স্বীকার করে বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দাপ্তরিক কাজেও কারও সাথে সমন্বয় করেন না। প্রদর্শনী মেলা আয়োজন উপলক্ষ্যে তাকে বহুবার সমন্বয়ের করতে বলেছিলাম তিনি আমাকে কিছু না জানিয়ে নিজের ইচ্ছেমত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আমি ওনার বিষয়ে এর আগেও বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। তিনি প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীর বরাদ্দের কথা আমাকে জানিয়েছেন কিন্তু কোন খাতে কত টাকা ব্যায় করেছেন তা এখনও উপস্থাপন করেননি। আমি জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাবো এবং এই প্রকল্পের সভাপতি হয়ে আজকের আয়োজনের জন্য আমি’ই লজ্জিত।




















