রতন দে,মাদারীপুর প্রতিনিধি :
মাদারীপুর জেলার নবগঠিত ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম বাঘরিয়া গ্রামের প্রবাসী বাবুল খানের তান্ডবে লন্ডভন্ড শতাধিক কৃষকের আশার আলো। ৫০০ একর ফসলি জমি বরবাদ হয়ে ফসল চাষের অযোগ্য হওয়ার সম্ভবনায় হতাশ কয়েকটি গ্রামের প্রান্তিক চাষীরা।
সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, শুক্রবার ( ১৮ এপ্রিল ২০২৫) রাত ১২ টার দিকে মাদারীপুর জেলার গঠিত ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মৃত মিলন খান ও মাহফুজা বেগমের ছেলে বাবুল খান উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে গভীর রাতে দ্বিতীয় দফায় ভেক্যু দিয়ে অবৈধভাবে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠের ঠিক মাঝখানে প্রায় ২ একর আবাদি জমি অবৈধভাবে কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে মাটি কাটতে থাকেন। বিষয়টি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন ও প্রান্তিক চাষীরা টের পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবুল খানকে অনুরোধ করেন যাতে এখানে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে বাধ দিয়ে ফসলের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না করার জন্য, কিন্তু বাবুল খান ও তার সহযোগিরা উপস্থিত কৃষক ও এলাকাবাসীর কথায় কর্ণপাত না করে উল্টো তাদের হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। উক্ত পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে সাধারণ জনগণ এলাকায় শান্তি শৃংখলা বজায় রেখে ট্রিপল নাইনে কল করলে খবর পেয়ে ডাসার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাবুল খান ও তার সহযোগী এবং ভেকু মালিক মাতুল, ড্রাইভার সবুজ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান যাওয়ার সময় উপস্থিত সকলকে দেখে নেওয়া হুমকি দিতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ গত শুক্রবার(১৮এপ্রিল ২০২৫) বাবুল খান বাদী হয়ে ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন একটি ডাকাতি ও লুটের কথা উল্লেখ করে ডাসার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন বলে বিশ্বস্ত জানা গেছে।
এই বিষয়ে উক্ত ইউনিয়নের ৭,৮ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মনোয়ারা বেগম জানান- এইখানে যদি অবৈধভাবে বাধ দিয়ে জলাশয় বা পুকুর খনন করা হয় তবে অত্র অঞ্চলের মানুষের একমাত্র অবলম্বন এই ফসলের মাঠে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে যা দিয়ে এলাকায় খাদ্য সংকট নিরসন হয়, জলাবদ্ধতার ফলে সারা বছর কয়েক শত একর ফসলি জমিতে স্থায়ী ভাবে ফসল চাষ বন্ধ হয়ে যাবে ফলে এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিবে এবং শতাধিক কৃষক কর্মহীন হয়ে পরবে।বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক তাই তিনি জলাবদ্ধতার নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও কৃষক নাদু শেখ, সিরাজ শেখ, গিয়াস উদ্দিন শেখ, মকবুল শেখ, আব্দুর রব চৌকিদার, ইউসুফ চোকিদার, দেলোয়ার মেম্বার, লাইজু মেম্বার, মোকসেদ খান,সত্তর মাতব্বর, জুয়েল মাস্টার, নুরু মাস্টার, মোহাম্মদ খা, আনোয়ার খা সহ আরো অনেকেই জানান- বাবুল খান একজন প্রবাসী হওয়ায় তার টাকার গরমে এলাকার সকল কৃষক এবং সাধারণ মানুষ জিমি হয়ে রয়েছেন তারা এই বাবুল খানের অত্যাচার থেকে বাঁচতে চান, কৃষি প্রধান বাংলাদেশ অধিক জনসংখ্যা ও দিনকে দিন ঘন বসতীর ফলে ফসলি জমি কমতে শুরু করেছে বিধায় দেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে ফলে বিদেশ থেকে উচ্চ মূল্যে খাদ্য সামগ্রী কিনে আনতে হয় আমরা চাই আমরা আমাদের জমিতে ফসল ফলিয়ে দেশে খাদ্য ঘাটতি পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালনে দেশের সরকারের পাশে দাড়াতে। এবং এই অত্যাচারী বাবুর খানের মিথ্যা মামলা থেকে আমরা সাধারণ মানুষ মুক্তি পেতে চাই।
এই বিষয়ে বাবুল খানের সাথে কথা বলতে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি তবে তার মা মাহফুজা বেগম জানান ঘটনার দিন রাতে ২৫/৩০ জন লোক তাদের বাড়িতে হামলা করে ঘরে ঢুকে নগদ ২২ লাখ টাকা সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায় এলাকাবাসী, তবে তার বক্তব্যের সাথে লুটপাটের কোন মিল পাওয়া যায়নি।
ঘটনার দিন বৃষ্টি হওয়ার মাটিতে কাঁদার সৃষ্টি হয় কিন্তু সেই কাদায় ভেক্যু চাকার দাগ ছাড়া অন্য কোন পায়ের ছাপ দেখা যায়নি এবং তাদের বাড়িটি পাকা দালান হওয়ায় দরজা জানালা ভাঙার কোন দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বললে তারা জানান – লুটপাট, ডাকাতির মতো কোন ঘটনা তারা দেখেননি।
ডাসার থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম জানান – এই বিষয়ে প্রবাসী বাবুল খান একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।




















