হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ: নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘দ্য ট্রি অব পিস’ পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে দেশে কম সরগোল হয়নি। একাধিক গণমাধ্যম ফলাও করে প্রকাশ করেছিল এই ঘটনা। প্রথম থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল ইউনেস্কো থেকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়নি। বরং ইসরায়েলি একজন ভাস্করের দেওয়া পুরস্কারকে ড. ইউনূস প্রতারণামূলকভাবে ইউনেস্কোর পুরস্কার বলে প্রচার করেছেন। অবশেষে শিক্ষামন্ত্রীর দাবি সত্যি হলো। অফিসিয়ালি ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই পুরষ্কার ইউনেস্কোর নয়, যার কোন স্বীকৃতিও নেই।
চিঠিতে ইউনেস্কো জানিয়েছে, ‘দ্য ট্রি অব পিস ’ একটি ভাস্কর্য, যা শিল্পী হেদভা সের দ্বারা তার শৈল্পিক কাজের অংশ হিসাবে তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনো অফিসিয়াল ইউনেস্কো পুরষ্কার নয় এবং এর কোনো ইউনেস্কোর মর্যাদা নেই। তবে হেদভা সেরও ইউনেস্কোর শুভেচ্ছা দূত। এই পুরষ্কার প্রদানে আয়োজকদের কোন সিদ্ধান্ত ছিল না বলেও জানানো হয়।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা বাপসনিউজকে জানায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই পুরস্কার নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল। তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দাবি তোলা হয়েছিল এটি কোন অফিসিয়াল পুরষ্কার নয়। এরপর গত ৩১ মার্চ ইউনেস্কো দপ্তরে বিশদ জানতে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চিঠি দেন। এরপর গত ২১ মে ইউনেস্কো বিশদ জানিয়ে তারা আমাদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যদিও এর আগে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ইসরাইলি একজন ভাস্করের দেওয়া পুরস্কারকে ড. ইউনূস প্রতারণামূলকভাবে ইউনেস্কোর পুরস্কার বলে প্রচার করেছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে যোগাযোগ করেছি।
তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের ওই ভাস্কর্য শিল্পীও নিশ্চিত করেছেন যে, এটি ইউনেস্কোর কোনো সম্মাননা বা পুরস্কার নয়। তিনি এটি গানজাভি ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ড. ইউনূসকে দিয়েছেন।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইউনূস সেন্টার ও ড. ইউনূসের বরাত দিয়ে যে সংবাদটি প্রচারিত হয়েছে, সেটি প্রতারণামূলক এবং সর্বৈব মিথ্যা। এখানে ইউনেস্কোর কথা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ইউনূস সেন্টারের ওয়েবসাইটে ইউনেস্কো প্রদত্ত পুরস্কার বলে উল্লেখ রয়েছে।’




















