এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ, নারায়ণগঞ্জ: বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের উদ্যোগে ১৪ দিনব্যাপী উপজেলা/থানা আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ-২০২৫-এর ৩য় ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা তরুণ প্রজন্মকে নীতি-নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ করে সুশৃঙ্খল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এই প্রশিক্ষণে জেলার মোট ১২৭ জন (একশত সাতাশ) আবাসিক ও অনাবাসিক প্রশিক্ষণার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক মণ্ডলীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূল পর্যায়ে আনসার প্লাটুনকে সুসংগঠিত করা এবং দেশরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করা। প্রশিক্ষণার্থীরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন জাতীয় প্রয়োজনে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশগ্রহণের বাস্তবমুখী অনুশীলন সম্পন্ন করেন।
প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তরুণ প্রজন্মকে নীতি-নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ করে সুশৃঙ্খল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এছাড়া, অতিথি বক্তাদের দিকনির্দেশনামূলক সেশনগুলো প্রশিক্ষণার্থীদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করে তুলেছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীরা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে একযোগে দীপ্তকণ্ঠে জাতীয় সেবায় আত্মনিয়োগের শপথ বাক্য পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কানিজ ফারজানা শান্তা। এছাড়া, প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষ মানবশক্তিতে পরিণত হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা যে আশরাফুল মাখলুকাত, অন্য সকল প্রাণি থেকে শ্রেষ্ঠ—তার কারণ আমাদের বিবেক। এই বিবেকবোধটুকু কাজে লাগিয়ে অন্যের দোষ না দেখে, অন্যের আশায় বসে না থেকে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে।” তিনি সকলকে মানবিক হয়ে কাজ করার কথাও জানান।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ জেলায় পর্যায়ক্রমে মোট ৮টি ধাপে নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুসারে ১৩৬০ জন (এক হাজার তিনশত ষাট) প্রশিক্ষণার্থীকে এই মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম ও সেবাচেতনা আরও গভীরভাবে প্রোথিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।




















