মোঃ আনোয়ার হোসেন, (ডিমলা) নীলফামারী :
তিস্তাপারের মানুষ চায় নদীভাঙন রোধ। ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচিতে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন এই নদীভাঙনের শিকার ও ভূমিহীন প্রান্তিক কৃষক। তাঁরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বোঝেন না। বোঝেন, নদী খনন করা হলে গভীরতা বাড়বে। দুই তীরে বাঁধ দিলে নদীভাঙন রোধ হবে। কৃষকের ক্ষেতের ফসলও আর নষ্ট হবে না।
ভারতের হঠাৎ পানি ছেড়ে দেওয়ায় নদীভাঙনের অন্যতম কারণ। তবে তিস্তার ভেতরে ও প্লাবনভূমিতে গড়ে ওঠা এসব প্রকল্পও কম দায়ী নয়। তিস্তায় গত কয়েক বছর থেকে যে তীব্র ভাঙন, তার একটি কারণ তিস্তা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, তিস্তায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিস্তৃত অঞ্চল ভাঙনের সম্মুখীন হবে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড আশঙ্কা নাকচ করে বলেছিল, মরফলজিক্যাল পরিবেশে তা (নদীভাঙন) যথাযথ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। তবে যদি প্রমাণিত হয়, এর কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তবে শর্ত মোতাবেক তিস্তা সোলার লিমিটেড তা মেরামত করে দেবে।
তবে অভিযোগ রয়েছে গত কয়েক বছর তিস্তা এলাকার কিলোমিটারের পর কিলোমিটার এলাকা তিস্তায় বিলীন হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই সব কর্মকর্তার ভাঙন রোধে অবহেলার কারণে।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য নদীর ওপর আড়াআড়িভাবে প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়। নদীর গলা চিপে ধরে সংকুচিত করা হয় বেইলি ব্রিজ বানানোর জন্য। ওই সব কারণে ২০২৩ সালে ভোটমারী, শৈলমারী ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন হয়। আমরা তিস্তাকে দায়ী করে গান বলেছি “” সর্ব নাসা তিস্তা নদী, তোর কাছে শুধাই—-।কিন্তু কোন প্রতিকার হয় নাই। তিস্তার পাড়ের কৃষকের আর্তনাদ কে শুনবে?
নদী ও নদীপারের মানুষের প্রতি অনাচার বুঝি শেষ হবে না। সরকারের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত নীতিমালায় স্পষ্ট ভূমিহীনের অধিকারের কথা বলা আছে। কিন্তু নদীভাঙা মানুষ খাসজমি বন্দোবস্ত পায় না। পায় ওই সব কোম্পানি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। সাবেক সরকারের আমলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন সৌরবিদ্যুতের ওই কোম্পানিকে ৫৮ একর খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়েছে।
তবু নদীপারের কৃষক ও ভূমিপুত্ররা রুখে দাঁড়াচ্ছেন, লড়াই করছেন। নিজ মৌজায় কৃষকেরা বাপ-দাদার ফসলি জমি ও বাস্তুভিটা রক্ষায় ‘বাস্তুভিটা ও আবাদি জমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র ব্যানারে লড়াই করেছেন। তৎকালীন সময় স্থানীয় দালাল, দলীয় ক্যাডার, পুলিশ প্রশাসন, ভূমি অফিসের দালাল কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের একটা অংশ বিরোধিতা সত্ত্বেও তাঁদের কোণঠাসা করতে পারেনি।
কৃষক বিদ্রোহের ভূমি রংপুর। কৃষক সমাজের প্রথম ও প্রধান মূল্যবোধ হচ্ছে জমি। তবু পুঁজিবাদী উন্নয়নের স্বার্থে কৃষক উচ্ছেদ চলছে। তিস্তাপার থেকে কৃষকেরা চরাঞ্চলে ভূমিদস্যু ব্যক্তি ও কোম্পানিকে উৎখাত করার দাবি তুলেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সরকারকে কৃষক ও ভূমিহীনের কথা শুনতে অনুরোধ করা হয়।




















