কামাল উদ্দিন টগর :
রাজশাহীর বাগমারার ইউনিয়ন যোগীপাড়া। এই ইউনিয়ন ঘেঁষে নাটোরের নলডাঙ্গা ও নওগাঁ আত্রাই উপজেলা। যোগিপাড়া ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের গ্রামটির নাম বীর কুৎসা। এখানে রয়েছে হাজার দুয়ারি জমিদার বাড়ি। সংরক্ষণ ও রক্ষাণাবেক্ষণের অভাবে এই জমিদারবাড়ির অনেক কিছুই বেহাত হয়ে গেছে। জমিদারবাড়ির পাশেই রয়েছে বীরকুৎসা রেলওয়ে স্টেশান।
জানা যায়, জমিদারি প্রথা চালু থাকা কালীন বীরকুৎসা ছিল একটি পরগনা। এ জমিদার ছিলেন ভারতের কাশী থেকে আসা বীরেশ্বর বন্দোপাধ্যায় ওরফে বিরুবাবু। পার্শ্ববর্তী আত্রাই উপজেলার আমরুলডিহি বিশার রাজা ছিলেন গোপাল ধাম। প্রভাতী বালা নামে তাঁর এক রুপসী কন্যা ছিলেন। রাজ্য মাতা হওয়ার সুবাদে বীরেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় কন্যা প্রভাতী বালার নামে বীরকুৎসা পরগনা হস্তান্তর করেন রাজা গোপাল ধাম।
প্রভাতীবালা ছিলেন খুবই শৌখিন। তাঁর পছন্দমতো স্বামী বিরুবাবু বীরকুৎসায় গড়ে তোলেন একটি সুরমা অট্রোলিকা। এর ছিল এক হাজারটি দুয়ার। এ কারণেই এটি হাজারদুয়ারী জমিদারবাড়ি নামে পরিচিত। দেশভাগের পর১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে বীরুবাবু স-পরিবারে ভারতে চলে যান। বীরুবাবুর ঘনিষ্ট সহচর কালিপদের পরিবারের লোকজনএখনো বীরকুৎসাতেই আছেন।
স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, এই হাজারদুয়ারী রাজবাড়ি প্রত্নতন্ত বিভাগ তার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ২০১৮ সালের আগষ্ট তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রাণালয় এ সংক্রান্ত পরিপত্রজারি করেছে। স্থানীয়দের দাবি এই বীরকুৎসা হাজারদুয়ারী বাড়িটি সংস্কার করে এখানে একটি পর্যটন মটেল তৈরি করে পর্যটন এলাকা হিসেব গড়ে তুললে বিনোদনের জায়গা হবে এবং সরকারের অনেক রাজস্ব আয় বাড়বে।




















