মোঃ আনোয়ার হোসেন, (ডিমলা) নীলফামারী: এক সময়ের অভাব আর অর্ধাহারে দিন পার করা নীলফামারীর মানুষগুলো এখন আর কষ্টের বানী শুনান না। তারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রম দিয়ে চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকাসহ তিস্তার বালুচরে ভুট্টার আবাদে যেন সবুজের সমারোহ। তামাকের পরিবর্তে বিভিন্ন জাতের ভূট্টার আবাদে বেশি আগ্রহী হয়েছেন কৃষকরা। এবছর ভুট্টার ব্যাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা দিন রাত পরিশ্রম করছেন নীলফামারী জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা উপজেলাসহ তিস্তা তীরবর্তী অঞ্চলের কৃষকরা। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আবাদ হয়েছে ভুট্টা।
তিস্তা নদীর বিশাল বালুচর ছাড়াও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী, কৈমারী, খুটামারা, বালাগ্রাম, গোলনা, মীরগঞ্জ শিমুলবাড়ী ও ধর্মপাল ইউনিয়ন ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী, খালিশা চাপানী, বালাপাড়া, পুর্ব ছাতনাই, গয়াবাড়ী, নাউতারা ইউনিয়ন, ডোমার উপজেলার চিলাহাটি, কেতকিবাড়ি, বোড়াগাড়ী,পাঙ্গা মটুকপুর, গোমনাতীসহ, প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ব্যাপকভাবে ভুট্টার আবাদ করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবারে ভুট্টার ফলনে বিপ্লব ঘটবে, এমনটাই প্রত্যাশা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের। আর তাই এখানকার চাষিরা স্থায়ীভাবে জলঢাকায় ভুট্টা সংরক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি ভুট্টা প্রক্রিয়াজাত কারখানা চালু করা দাবি করেছেন বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে।
কৃষক সাদেকুল ইসলাম ও আব্দুল রহিমের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তারা জানায়, ভুট্টা প্রক্রিয়াজাত কারখানা চালু করা হলে স্থানীয় বাজারগুলোতে ভুট্টার দাম নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার কর্মহীন মানুষদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে তিন উপজেলার ৭ হাজার ১শত ১০ হেক্টরে ভুট্টা আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। জলঢাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহম্মেদ ও ডিমলা উপজেলার কৃষি অফিসার সেকেন্দার আলী জানান, কৃষকরা বেশি লাভবান হওয়ার আশায় তামাকের পরিবর্তে এবারে আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে অন্য বছরের তুলনায় ভূট্টার আবাদে কোন পোকার আক্রমণ না থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকের কাছে গিয়ে পরামর্শ প্রদান করছেন।
কৃষক কবির হোসেন জানায়, গত বছর যে জম সবল হয়েছে। আশা করি ফলন ভালো হবে।




















