স্টাফ রিপোর্টার॥ জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৬নং মোমিনপুর ইউপির রোস্তমনগর, মিলপাড়ায় মোঃ আতিকুর রহমান (আখের আলী) (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৪ জনের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল ১ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল অনুমান সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার ভবের বাজার, রোস্তমনগর নামক এলাকায় ক্রয়কৃত নিজ নামীয় জমির পুকুর পাড়ে রোপনকৃত আম গাছ কাটতে গেলে তিনি অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলায় শিকার হন। এ সময় হামলাকারীদের হামলায় আখের আলীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে ছেলের বৌ শাপলা বেগম (৩০) এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র রড দিয়ে তার মাথায় সজরে আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পরে। ওই সময় বড় ছেলের বৌ জান্নাতি (৩৫) বেগম অবস্থা বেগতিক দেখে এগিয়ে গেলে তাকেও বেধড়ক মারপিট করে। এমতাবস্থায় আখের আলীর বড় ভাবি মোছাঃ ছালেহা বেগম (৫৫) তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও ছাড় দেয়নি। আখের আলীর পরিবারগন হামলাকারীদের আঘাতে মাটিতে পড়ে থাকলে এলাকাবাসী উদ্ধার করে পার্বর্তীপুর উপজেলা হলদিবাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় ১৪ জনকে বাংলাদেশ দ্বন্ড বিধি মামলা নং-০৪- ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩১৭/৩৮৯/৩৫৪/৫০৬/১১৪/৩৪/ধারা মোতাবেক আসামী করে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা করেছেন ভূক্তভোগীর ছেলে মোঃ মাসুদ রানা। এর মধ্যে আসামী শওকত আলী (৪২)কে গ্রেফতার করেছে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ।
মামলার বরাত দিয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হাসনাত বলেন, পার্বতীপুর উপজেলার মোমিনপুর ইউপির রোস্তমনগর এলাকার বাসিন্দা বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান (আখের আলী) দলিলমূল্যে জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ফল ফলাদির গাছ ও পুকুরে মাছ চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু ওই জমি জবরদখলের চেষ্টায় গাছ কাটা সংক্রান্ত জের ধরে গত ০১/০২/২৩ পাশ্ববর্তী১/ মোঃ শওকত আলী( ৪২),২/ মোঃ বুলবুল (৪৩), ৩/মোঃ সবুজ সরকার(৪৮), ৪/ হিরা সরকার (৩৮), ৫/মোঃ আল্লাম সরকার(৩৫), ৬/ মোঃ মতিউর রহমান( ৪০),৭/ মাহাফুজার রহমান (২২),৮/আশরাফ আলী(৫৭), ৯/মোঃ আকবর আলী (৫২), উভয় পিতা- আলতাফ উদ্দিন ( ডুঙ্গু ) ১০/ মোছাঃ মাহাফুজা বেগম( ৩৮),সর্ব সাং রুস্তম নগর মিল পাড়া, ১১/ মোছাঃ শাহাজাদী বেগম (৩৮),১২/ মোছাঃ রাবেয়া বেগম( ৩৭),১৩/ মোছাঃ বানু বেওয়া (৫৫),১৪/মোছাঃ রোকেয়া বেগম (৫০), তার নিজস্ব রোপন করা আম গাছ কাটতে গেলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আখের আলীর ওপর হামলা চালায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তার আত্মীয়-স্বজনরা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে তাদের বেধড়ক মারপিট করা হয়।
মামলার বিবরনে আরও বলা হয়, হামলার সময় শাপলা বেগমের গলায় থাকা আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন আসামী মতিউর রহমান টান দিয়ে নিয়ে যায়। যার মূল্য ৫০,০০০ /টাকা বলে দাবী করেন ভুক্তভোগী পরিবার। তিনি পুলিশ সদস্যকে মারপিটের ঘটনার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং একজন আসামিকে খুব দ্রুত সময়ে আমরা আটক করতে সক্ষম হয়েছি বাকিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।




















