রবিউল হক বাবু (ফুলপুর) ময়মনসিংহ :
ময়মনসিংহ জেলা ফুলপুর উপজেলা ধন্তা গ্রামের রহিমগঞ্জ ইউনিয়নে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। পবিত্র রোজার দিন, শুক্রবার দুপুর ১২টায় যখন মসজিদে আজান শোনার প্রস্তুতি চলছিল এবং গ্রামের মানুষ রোজার ক্লান্তি সত্ত্বেও নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, যা গ্রামবাসীর বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।
সুমন, প্রায় ৬/৭ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বেঁচে থাকা এক যুবক, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ক্ষুধায় তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছিল, একদিকে রোজা রাখার ইচ্ছা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতা তাকে আরও কাহিল করে তুলছিল। এ সময় সে একরামুল নামে এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে বিড়ি চায়। কিন্তু এই সাধারণ অনুরোধের কারণে একরামুল রেগে গিয়ে সুমনকে নির্মমভাবে মারতে শুরু করে। সুমন ব্যথায় কাতর হয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে—”বাবা! বাবা!”
ঠিক তখনই, তার বৃদ্ধ বাবা ছুটে আসেন। সন্তানের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি একরামুলকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু একরামুল ক্ষান্ত হয়নি। বরং সে আরও নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে। এক লাথিতে বৃদ্ধ বাবাকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং ধারালো সেঁউটি (সেনি) দিয়ে বেধড়ক আঘাত করতে থাকে। রক্তে ভিজে যায় চারপাশ। পিতার নিথর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
তিনি এখন প্রায় মৃত অবস্থায় আছেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়ে আছেন এক অসহায় পিতা, যিনি শুধুমাত্র তার সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন।
গ্রামবাসী এই নির্মম দৃশ্য দেখছিল, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। পবিত্র জুমার দিনের শিক্ষা যেন হারিয়ে গিয়েছিল। একরামুল, যিনি আগে বহুবার চুরি করে ধরা পড়েছেন, এবার তার নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতার শিকার হলো এক অসহায় বাবা ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে।
এটি কেবল একটি বর্বরোচিত হামলা নয়, এটি আমাদের সমাজের মানবিকতার মৃত্যু। একজন পিতা তার সন্তানের জন্য জীবন বাজি রেখে ছুটে এসেছিলেন, কিন্তু সমাজের সহানুভূতি কোথায়?
প্রশ্ন উঠছে—এই নির্মম ঘটনার বিচার হবে কি? প্রশাসন, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীরা কি এই ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নেবে? নাকি এটি শুধু আরেকটি মর্মান্তিক সংবাদ হিসেবেই হারিয়ে যাবে?
এই ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। আমরা কি মানুষ হিসেবে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছি? নাকি এখনও সময় আছে নিজেদের সংশোধন করার?




















