স্টাফ রিপোর্টার॥ মায়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাইলেন ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মোরসালিন। বাবা তাঁর প্রেমিকার কথামতো বিষপান করিয়ে হত্যা করেছে তার মাকে। নিজে হত্যা করে তা আত্নহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে গত দু’দিন যাবত। অজ্ঞাত কারণে ৪৮ ঘন্টাপর পুলিশ শর্তদিয়ে মামলা নিলেও এখনো কোন আসামি ধরতে পারেনি ,এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে থানা ঘেরাও করতে এসে এভাবেই প্রশ্ন তুলেছে মোরসালিন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ মামলা হওয়ার পরও আসামিরা কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গৃহবধূর আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও করেছেন এলাকাবাসী ।
গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তাঁরা থানা ঘেরাও করেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৮ বছর আগে গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের শান্তিপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের বড় ছেলে শামসুজ্জামান বাবুর (৩৯) সঙ্গে বিয়ে হয় রোকসানা বেগমের। নিহত গৃহবধূ রোকসানা বেগম উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের চারআনী শেরপুর গ্রামের তফেল উদ্দিনের মেয়ে। তাদের ঘরে দুটি সন্তান আছে তবুও দীর্ঘদিন যাবত পরকিয়া করে আসছিল বাবু।
খবর জানাজানি হলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রিংকি নামের আরেক মেয়েকে বিয়ে করে বাবু। বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রী প্রতিবাদ করলে তাকে মারপিট করে স্বামী বাবু। মারপিটের একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন গৃহবধূ রোকসানা। পরবর্তীতে তাকে বিষপান অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয় পরিবারের লোকজন।
দায়িত্বরা চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করলে বাবা তফেল উদ্দিন ১৪ তারিখ বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় এজাহার দেন। নিহতের ভাইয়ের দাবি তার বোনকে মারপিট করে মুখে বিষ খাইয়ে দেয় বাবু সহ তার পরিবারের লোকজন। আর এই হত্যাকে আত্মহত্যা চালানোর চেষ্টা করছে এখন।
নিহতের মামা নূর ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নিকে হত্যা করার পর মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা থানায় অনেক বার এসে পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরেও প্রথম দুদিন কোনো মামলা নিতে চায়নি পুলিশ। বাবু এলাকায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ জন্য বাবুর নামে থানা মামলা নিতে চায় না। আমার বোন মারা যাওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পর অনেক শর্ত সাপেক্ষে মামলা নেয় পুলিশ। মামলা নং-১৮ তাং ১৬/০২/২৩ ইং ধারা-৩০৬/১০৯ দঃবিঃ।
বুলবুল মিয়া (রোকসানার ছোট ভাই) বলেন,আমার বোনকে বাবু ও তাঁর পরিবারের লোকজন মিলে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। বাবু দুই বছর ধরে রিংকি নামের একটি মেয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত। আমার বোন আগেই আমাদের পরকীয়ার বিষয়টি জানায়। আমরা দুই বছরে প্রায় ৮ থেকে ১০ বার এলাকার লোকজন মিলে বাবুর বাড়িতে গিয়ে সালিস করে দিয়েছি। সালিসের কিছুদিন যেতে না যেতে আবারও শুরু হয় ওই মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা। এ বিষয়ে আমার বোন কিছু বললেই বাবু মারধর করত। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা নিয়েছি। আসামিরা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, দ্রুত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সব ধরনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। আসামিরা ঘটনার দিন থেকেই পলাতক রয়েছে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে তথ্যটি সঠিক নয়। এদিকে পরিবারের স্বজনরা ও এলাকাবাসী উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে বিচার দিবে মর্মে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামি গ্রেফতারে আল্টিমেটাম দিয়েছে গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশ’কে।




















