বাংলাদেশ সকাল ডেস্ক॥ ভারতে স্বর্ণ আমদানিতে ধস নেমেছে। জানুয়ারিতে আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ৭৬ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে আমদানি ৩২ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। খবর রয়টার্স।
সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমদানি শুল্ক কমার প্রত্যাশায় গত মাসে স্বর্ণালংকার কেনার হার ছিল নিম্নমুখী। তাছাড়া রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদাও ছিল তলানিতে। এ কারণে আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবহারকারী। দেশটিতে আমদানি কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজার আদর্শ দাম নিম্নমুখী চাপে পড়তে পারে। তবে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার পাশাপাশি মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা লাঘবে বিষয়টি সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা বিশেষজ্ঞদের।
জানুয়ারিতে ভারত সব মিলিয়ে ১১ টন স্বর্ণ আমদানি করেছে।গত বছরের একই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৫ টন। অর্থমূল্যের দিক থেকে আমদানি ২৩৮ কোটি ডলার থেকে কমে ৬৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারে নেমেছে।
স্বর্ণ আমদানিকারক একটি বেসরকারি ব্যাংকের মুম্বাইভিত্তিক এক ডিলার বলেন, ‘গত মাসে ভারতের স্থানীয় বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য ৫৭ হাজার ২৭০ রুপিতে উন্নীত হয়।
জানুয়ারিতে বিয়ের মৌসুম চলায় এ সময় স্বর্ণ আমদানি কিংবা চাহিদা ব্যাপক বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আকাশচুম্বী দামের কারণে খুচরা বাজারে ধাতুটির চাহিদা কমে যায়।’
ভারতে স্বর্ণের আমদানি কিংবা দামের উত্থান পতনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে বিয়ে। কারণ দেশটিতে কনের সাজসজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ এটি। এছাড়া পরিবার ও অতিথিদের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবেও স্বর্ণের জুড়ি নেই।
অন্য একটি বেসরকারি ব্যাংকের নয়াদিল্লিভিত্তিক এক ডিলার বলেন, ‘গত মাসের শেষার্ধে স্বর্ণালংকার ও বার ব্যবসায়ীরা কোনো স্বর্ণই ক্রয় করেননি। কারণ তাদের প্রত্যাশা ছিল বার্ষিক বাজেটে সরকার স্বর্ণের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার কিংবা কমাবে, যা ধাতুটির চোরাচালান বন্ধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’
কিন্তু ১ ফেব্রুয়ারি উপস্থাপিত বাজেটে আমদানি শুল্ক কমানো হয়নি। উল্টো রৌপ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বিয়ের মৌসুমে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলতি মাসে স্বর্ণ আমদানি বাড়াতে পারেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, চাহিদা ও আমদানি কমে যাওয়ার ফলে সম্প্রতি স্বর্ণের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে।
সুত্রঃ বণিক বার্তা




















