আবু সুফিয়ান পারভেজ, ভূরুঙ্গামারী কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি॥কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে শীতকে উপেক্ষা করে জমি প্রস্তুতের পাশাপাশি বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ জমিতে হালচাষ করছেন, কেউ বা চারা তুলছেন আবার কেউ সেই চারা জমিতে রোপণ করছেন। সোনার ফসল ফলাতে সকল বাধা পেরিয়ে বিপুল উৎসাহ নিয়ে মাটে নেমেছে হাজারো কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবছর জানুয়ারীর মাঝামাঝি থেকে বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ শুরু হয়েছে মার্চ পর্যন্ত চারা রোপনের কাজ চলবে। চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে হাইব্রীড,উসফী ও স্থানীয় সহ মোট ১৬ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে ইরি,বোরো ধান রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে । চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বীজতলা তৈরি হয়েছে ৮৯২ হেক্টর জমিতে।
সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা নিচু জমিগুলোতে আগে চারা রোপণ করছেন। যাতে বর্ষা ও কালবৈশাখীতে কোন ক্ষতি হওয়ার আগে তারা ফসল ঘরে তুলতে পারেন। চলতি বছরে উপজেলায় বোরো ধানের মধ্যে হিরা-২, হিরা-৬, ব্যাবিলন-২, ব্রি-৯০, ব্রি-২৯ ও জিরাসহ আরও অনেক জাতের ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বারুইটারী গ্রামের কৃষক রাসের বলেন, গত বছর ৪ বিঘা জমিতে হাইব্রীড আবাদ করেছি। অনেক ভালো দামে বিক্রিও করেছি। তাই এ বছর মোট ৭ বিঘায় ধান আবাদ করছি। ইতিমধ্যে ৩ বিঘা রোপন হয়ে গেছে।যদিও এবার কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আর আবাদ ভালো হলে এবছরও লাভবান হবো বলে আশা রাখি।
উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের মইদাম গ্রামের কৃষক ইনতাজ আলী বলেন, এবার ৮ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করবো। ৪ বিঘা জমিতে রোপন হয়ে গেছে। আরো ৪ বিঘা বাকি আছে। সেসব জমিতে পানি দিয়ে চারা রোপনের প্রস্তুতির কাজ চলছে। সপ্তাখানেকের মধ্যে সব রোপন হয়ে যাবে।ঠান্ডায় কষ্ট হলেও কিছু করার নেই। পরে কাজের লোক পাওয়া কষ্টকর হবে।
পাথরডুবি ইউনিয়নের বরেদ্র মালিক আব্দুল আলিম বলেন, জমিতে পানি সেচ, হালচাষ, সার প্রয়োগ, বীজ উঠানো, ও প্রস্তুতকৃত জমিতে চারা রোপন করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে কৃষকরা।বরেদ্রর পানি ছেড়ে দিয়েছি কৃষকরা মনমতো পানি নিয়ে জমি প্রস্তুত করছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শাহ আপেল মাহমুদ জানান, সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলায় ৫ হাজার কৃষককে উফশী জাতের ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ৩০০ কৃষককে ২ কেজি উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলায় পুরোদমে বোরো ধান রোপণের কাজ শুরু হয়ে গেছে।




















