রিফাত আরেফিন (ব্যুরো প্রধান, যশোর) : যশোর কেশবপুরের আড়খালি ছোট বিল এলাকার সুফলাকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মুনজুর রহমান বেশ কিছুদিন যাবৎ নিরীহ গ্রামবাসী, কৃষক, দিনমজুর গরিব অসহায় মানুষের প্রতি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমি দখল, মাছ চাষের ঘের দখল, অসহায় মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙ্চুরসহ অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। গ্রামবাসী ও সাধারণ খেটে খাওয়া দিনমজুর অসহায় গরিব মানুষের কাছে মুনজুর এক মূর্তমান আতঙ্কের নাম।
বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রম দেখিয়ে এই সাবেক জামাত বর্তমান চেয়ারম্যান গ্রামের সহজ সরল অসহায় মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে শুরু করেছে। তার অন্যায় অত্যাচারে ছোট বিল এলাকার সুফলাকাঠি গ্রামের মানুষ নির্বাক হয়ে পড়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার মানববন্ধন ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
চেয়ারম্যান এস এম মুনজুর রহমানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেও কোন প্রতিকার পাননি সুফলাকাটি গ্রামের অসহায় মানুষ ও মাছ চাষিরা। মানববন্ধন করার বদলা হিসাবে তাদের মাছ চাষ করা ঘেরের ঘর ভাঙচুর ও ঘেরে থাকা মাছের খাবার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তার উপস্থিতিতে লুটপাট করেছেন তার পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী।
তদন্তে উঠে আসে নৃশংস এই চেয়ারম্যান একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেশবপুর উপজেলা মৎস্যজীবি লীগের সভাপতি। তিনি কেশবপুরের কালিয়ারই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। একদা জামাতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং সেই পরিচয়ে নির্বাচন করা এই চেয়ারম্যান বর্তমানে কেশবপুর উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি।
তার ভয়ে যশোর কেশবপুর ছোট বিল এলাকার সুফলকাটি গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময় তার পোষা বাহিনী দিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে গরিব অসহায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের। তার ভয়ে তারা কিছু বলতে পারছে না।
তার অন্যায় অত্যাচারের শিকার যশোর কেশবপুর ছোট বিল এলাকার সুফলাকাটি গ্রামের ঘের মালিক সিদ্দিকুর রহমান, জমিদাতা আব্দুল খালেক, নজরুল ইসলাম, জাবের সরদার, রফিকুল ইসলাম ফকির, জাকির হোসেন, বিল্লাল হোসেন, শাহীনুর, মিজানুর রহমান, শামীম, গনেশ পাল, মিন্টু রহমানসহ আরো অসংখ্য অসহায় মানুষ।
ইতিমধ্যে গত ২০/৬/২০২৪ তারিখ আনুমানিক রাত ১২:৩০ মিনিটের সময় চেয়ারম্যান এসএম মুনজুর রহমানের উপস্থিতিতে ছোট বিলের মাছ চাষের ঘেরের ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে তার পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী। পাশাপাশি ঘেরে থাকা মাছচাষীদের প্রাণ নাশেরও হুমকি-প্রদান করেছেন তিনি যেখানে তার আদেশ ছিল “এদের পায়ের হাটুর নিচ থেকে ভেঙ্গে গুঁড়ো গুঁড়ো করে দাও”। এ বিষয়ে গ্রামবাসী, মাছ চাষী ও কৃষকেরা একত্রিত হয়ে কেশবপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি এই নির্যাতনকারী চেয়ারম্যানের হাত থেকে তারা পরিত্রাণ চায়। এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এই আতঙ্কে থাকছে যে কখন চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী এসে তাদের আক্রমণ করবে। চেয়ারম্যান এসএম মুনজুর রহমানের ভয়ে তারা সবসময় আতঙ্কিত অবস্থায় জীবন যাপন করছে। এই অবস্থায় তারা প্রশাসন ও মিডিয়াকর্মীদের কাছে সুবিচার পাওয়ার আশায় দারস্থ হয়েছে। তাদের আহবান সন্তান সন্ততি নিয়ে শান্তিতে বসবাস করার নিশ্চয়তা।




















