রতন দে, মাদারীপুর প্রতিনিধি : দালালের খপ্পরে পড়ে উন্নত জীবনের আসায় ইতালিতে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলা পশ্চিম কমলাপুর গ্রামের আসাদ মাতুব্বর (৪০)। সে দীর্ঘ দুই বছর লিবিয়ার অন্ধকার কারাগারে ভয়াবহ অমানবিক নির্যাতন শিকার হয়ে অবশেষে গত ৩১ ডিসেম্বর মারা গেছেন বলে অভিযোগে পাওয়া গেছে।
আসাদ মাতুব্বর উপজেলা ডাসার ইউনিয়নের পশ্চিম কমলাপুর আঃ হামিক মাতুব্বরের ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে নিহতের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে যায় তার বাবা-মা, ভাই, আত্মীয়-স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের পরিবার সুত্রে এতথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আসাদ মাতুব্বরের ভাই মাসুদ মাতুব্বর ও ছেলে আবির মাতুব্ব বলেন, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝী ইউনিয়নে ঝিকরগাটি গ্রামের মঙ্গল খানের ছেলে রুবেল খান অল্প টাকার বিনিময় লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে সাগর পথে ইতালি লোক পাঠান। এ কথা জেনে ওই
দালাল রুবেন খানের প্রলোভনে সাড়া দিয়ে আসাদ মাতুব্বর অবৈধ পথে ইতালি যেতে রাজি হন। ইতালি যেতে প্রত্যেক লোককে ৮ লাক্ষ করে টাকা দিতে হয় রুবেল খানকে। আসাদ মাতুব্বরকে ইতালি লেওয়ার কথা বলে ২ বছর আগে লিবিয়া নিয়ে যায় দালাল রুবেন খান। তাকে
লিবিয়া পৌছানোর পর নিয়ে যাওয়া অন্ধকার এক কারাগার। সেখানে বসে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে ভিডিও কলে আসাদের পরিবারকে টাকা পাঠাতে বলত দালাল রুবেল। এই পর্যন্ত আসাদ মাতুব্বরের পরিবারের কাছ থেকে মোট ৪৩ লাক্ষ টাকা নেয় রুবেল। হঠাৎ গত ৩১ ডিসেম্বর লিবিয়ার দালাল রুবেল ফোন দিয়ে বলে আসাত মাতুব্বর মারা গেছে। আমরা লাশ কবর দিয়ে দিছি।
তবে নিহতের ছেলে আবিরের দাবি, আমার বাবা আসা মাতুব্বরের লাশ ফেরত চাই। দালাল রুবেলের ফাঁসি চাই।
এ বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত রুবেল খানকে ফোন করে পাওয়া যায়নি এবং বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয় যায়।
স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, আসাদের মৃত্যুর খবরে আমাদের পুরো এলাকা নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। আমরা দালাল রুবেলের বিচার চাই।




















