বাংলাদেশ সকাল
মঙ্গলবার , ২৭ আগস্ট ২০২৪ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কৃষি বার্তা
  8. ক্যাম্পাস
  9. খেলাধুলা
  10. খোলা কলাম
  11. জাতীয়
  12. তথ্য ও প্রযুক্তি
  13. ধর্ম ও জীবন বিধান
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাস

সোনাহাট স্থলবন্দরে লোপাট হাজার কোটি টাকার রাজস্ব 

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ২৭, ২০২৪ ৬:২৯ অপরাহ্ণ

 

আবু সুফিয়ান পারভেজ, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম): বাংলাদেশের সর্বশেষ ২৪ ও ২৫ তম প্রস্তাবিত স্থলবন্দর দুইটি বাদ দিলে যে ২৩ টি স্থলবন্দর রয়েছে এর মধ্যে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় অবস্থিত সোনাহাট স্থলবন্দর টি ২০১২ সালের ১৭ই নভেম্বর থেকে চালু হয়। যেখানে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে।

বন্দর চালু হবার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নিয়মিতভাবে পাথর কয়লা সহ আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের ২১ টি পণ্য ও ভুটানের সুতা এবং আলু ব্যতীত উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত সকল পণ্যই অনুমোদিত রয়েছে।

রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ পণ্য ব্যতীত সকল পণ্যই রপ্তানির জন্য অনুমোদিত বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রপ্তানি হয়ে আসছে তুলা, পার্টিক্যাল বোর্ড, প্লাস্টিক জাত পণ্য, তৈরি পোশাক পণ্য যেমন টি-শার্ট, শাড়ি, লুঙ্গি ইত্যাদি।

আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বিগত বছরগুলোতে বন্দরটি থেকে সরকার কত হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টম কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে কত কোটি টাকা অবৈধ পন্থায় ঘুষ কিংবা লুটপাট করেছে তার প্রকৃত তথ্য হয়তো সংশ্লিষ্ট দপ্তর কিংবা নিরপেক্ষ নির্ভরযোগ্য তদন্ত কমিশন গঠন করলে বের করা সম্ভব।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথা শুল্ক ও কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ বিধি নিষেধ সম্বলিত বন্দর ব্যবস্থাপনায় যেখানে টু শব্দ করার কেউ নেই কিংবা যেখান থেকে কাক পক্ষীও কোন তথ্য সংগ্রহ করতে অপারগ সেই স্থানের প্রকৃত চিত্র কেবলমাত্র স্বচ্ছ, স্বাধীন সংস্থার পক্ষেই বের করা সম্ভব।

তবে শত শত কোটি টাকা কিংবা হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি এবং দুর্নীতির বিষয়টি উঠে আসে সরকার পতনের পর গত ১৭ই আগস্ট ছাত্ররা যখন বন্দরে বিভিন্ন সময়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চায়। তারই সূত্র ধরে বিভিন্ন সময়ে গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী যতটুকু পাওয়া গেছে তা দেখলেই যে কারো চোখ কপালে উঠবে। ভেতরের আরো ভয়ংকর প্রকৃত চিত্র যদিও এর মাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তবে যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতেই এটি তৈরি করা হয়েছে।

সূত্রমতে জানা যায়, আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতি টন পাথর থেকে সরকারি রাজস্ব আয় হয় ৬৮৫ টাকা এবং কয়লার ক্ষেত্রে প্রতি টন কয়লার জন্য সরকারি রাজস্ব আয় প্রায় ৩৪০০ টাকা।

একটি ভারতীয় পাথর বাহী ট্রাকে পাথর আসে গড়পরতায় ৫৫ থেকে ৬৫ টন, কয়লা আসে গড়পড়তায় ২৫ থেকে ৩৫ টন। ক্ষেত্রবিশেষে বন্ধ, সরকারি ছুটি এবং অন্য কোন কারণ না থাকলে ভারত থেকে বাংলাদেশের বন্দরে প্রতিদিন এসব পাথর ও কয়লা বাহী গাড়ি আসে গড়পরতায় ৮০ থেকে ১২০ টি।

দীর্ঘদিন ধরে স্থলবন্দরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় গোপন সূত্রে বিভিন্ন ভাবে পাওয়া গেলেও কিংবা অনেকের কাছে সন্দেহজনক মনে হলেও এটি প্রকাশ্যে আসে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর। গত ১৭ই আগস্ট ছাত্র জনতার স্থলবন্দরে গিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের কারণে এসব সন্দেহ আরো প্রকট হয়। তারা স্থল বন্দরের ওজন পরিমাপক যন্ত্র যাকে “নাশিদা ডিজিটাল স্কেল ওয়েব ব্রিজ” বলা হয় এখানে গাড়ির ও মালের পরিমাপ এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের লিখিত সরকারের তালিকায় ওঠা পরিমাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। ছাত্ররা যখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে বলতে যান, তখন তাদের বক্তব্য থেকে একটা বিষয়ে উঠে আসে আর তা হচ্ছে তারা জানতে পারেন উক্ত স্থল বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ তাদের বন্দরে ওজন পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে (বাইরের স্কেল এর) পরিমাপ এবং তাদের সরকারি বহিতে উত্তোলিত পরিমাপের পার্থক্যের বিষয়ে এমন উত্তর দেন যে, “বাইরের ওয়ে ব্রিজের পরিমাপ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বহিতে লিখিত পরিমাপের পার্থক্যের অংশের রাজস্ব টি তারা অন্যভাবে সরকারের খাতায় জমা করেন”। কিন্তু এমন কোন পদ্ধতি সরকারী নিয়মে আছে বলে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে গোপন সূত্রে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে ভেতরের কিছু ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। যাতে দেখা যায় যে, তারা খাতায় যা উল্লেখ করেছে তা বাইরের নাশিদা ওয়ে ব্রিজ স্কেলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির হাতে লেখা চিরকুটের সাথে মিল নেই , এটির পরিমাপ মূলত তারা তাদের নিয়োজিত কাস্টমসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিপাহীর মাধ্যমে করে থাকে যার প্রকৃত পরিমাপ কয়েকটি (তাদের হাতে লেখা) চিরকুট এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু তারা তাদের নিয়োজিত ওই একই সিপাহীর দেয়া তথ্যানুযায়ী ওজন কম দেখানো আরেকটি তালিকার সাথে অফিসের তালিকা মিল রেখে এই রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি নিশ্চিত করে। যার সাথে প্রকৃত ওজনের (চিরকুটে লেখা তথ্যমতে) কোন মিল নেই।

কয়েকটি গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল তারিখে ভারত থেকে আমদানি করা কয়লার বিল অফ এন্ট্রি (নং-১৫২৮) এর মাধ্যমে জানা যায়, উক্ত বিল অফ এন্ট্রির বিপরীতে দুইটি গাড়িতে (গাড়ি নং- AS09C3467 ও AS01DD4261) আমদানিকৃত ৪০ মেট্রিক টন কয়লার রাজস্ব প্রদান করা হয়। যার অর্থের পরিমাণ ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫৯২ টাকা কিন্তু উক্ত দুই গাড়িতে প্রকৃতপক্ষে আমদানি করা হয়েছে ৬৯ মেট্রিক টন কয়লা। যা লিখিত হিসাবের চেয়ে ২৯ টন বেশি এবং এই ২৯ টনের কোন রাজস্ব সরকার প্রাপ্ত হয়নি। যার মোট রাজস্ব দাড়ায় ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৯৬ টাকা। এখানে একদিনে মাত্র দুইটি গাড়িতেই সরকারি রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ ৯৮ হাজার ৩০৪ টাকা।

শুধু তাই নয় ওই বিল অফ এন্ট্রির বিপরীতে একটি গাড়ির ওজন বৃদ্ধি করে ও গাড়িতে থাকা মালের ওজন কম দেখিয়ে ফাঁকি দেয়া হয় আরো ১ হাজার ৮৬৪ টাকা।

একই দিনে প্রাপ্ত আরেকটি বিল অফ এন্ট্রি (নং-১৫৩০)র বিপরীতে দেখা যায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হিসেব মতে ২ টি ভারতীয় গাড়িতে (যার নং- AS19C3486 ও AS01GC7872) আসা কয়লার পরিমাণ ৪০.৪৯ মেট্রিক টন যার বিপরীতে রাজস্ব দেখানো হয় ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ২৫৩ টাকা। কিন্তু ওই দুই গাড়িতে আসা প্রকৃত কয়লার পরিমাণ ছিল ৬৯.১ মেট্রিক টন। যার রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ ৯৬ হাজার ৯ শত ৮২ টাকা।

সর্বশেষ - এক্সক্লুসিভ