বাংলাদেশ সকাল ডেস্ক : বাংলাদেশি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কি ভারত ফেরত পাঠাবে? এই নিয়ে ঢাকা সন্দেহে আছে। এরই মাঝে দিল্লির সূত্রে খবর, সব ফর্মালিটি সম্পন্ন না করেই ‘নোট ভার্বাল’-এর জবাবের অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ সরকার।
শুধুমাত্র এক ‘নোট ভার্বাল’ দিয়ে দিল্লি কাছ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছিল ঢাকা। তবে এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সব আনুষ্ঠানিকতা নাকি সম্পন্ন করেনি বাংলাদেশ সরকার। হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ধরনের প্রত্যর্পণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফর্মালিটি থাকে। তবে বাংলাদেশ সরকার নাকি সেই সব না করেই বলে যাচ্ছে – ‘হাসিনাকে দিল্লি ফেরত পাঠাবে না’। এই সবের মাঝে ভারত নাকি বাংলাদেশের ‘নোট ভার্বাল’-এর জবাব নাও দিতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি শীর্ষকর্তা নাকি এই বিষয়ে জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর আবেদন করে দিল্লিকে ‘নোট ভার্বাল’ দিয়েছিল ইউনুসের সরকার। তবে সেই আবেদন নিয়ে সম্প্রতি আপত্তি জানিয়েছে আওয়ামি লিগ। ইউনুস সরকারের বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বন্দি প্রত্যর্পণের চুক্তি হয়েছিল, তাতেই শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক বাংলাদেশে।
প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকে কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগের বক্তব্য, ২০১৩ সালে ভারত এবং বাংলাদেশের যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়েছিল, ‘ভুয়ো রাজনৈতিক কারণে করা মামলা’ তার অধীনে আসে না। আওয়ামী লীগের অভিযোগ, হাসিনাকে খুনের ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশে ফেরাতে চাইছে ইউনুসের সরকার। এই নিয়ে সম্প্রতি এক বিবৃতি প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের বক্তব্য, ‘তারা বিচারের নামে সুকৌশলে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়। বাংলাদেশ আওয়ামি লিগ মনে করে যে, দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে কোনও তাৎপর্যই নেই এই তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যর্পণের অনুরোধের। কারণ রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা মামলা এই চুক্তির আওতায় পড়ে না। উপরন্তু, যদি ভুল বিচারের ঝুঁকি থাকে তবে এই চুক্তিটি প্রযোজ্য নয়। আজ সারা বিশ্ব জানে বাংলাদেশে আইনের শাসন বা বিচার নেই।’
এদিকে ভারত জবাব না দিলে বাংলাদেশ কী করতে পারে? এই নিয়ে হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছিলেন, ‘কূটনৈতিক পত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনও সরকারি চ্যানেলে আমরা কোনও উত্তর পাইনি। এই মুহূর্তে আমরা কোনও মন্তব্য করব না, বরং ভারতের সরকারের জবাবের জন্য অপেক্ষা করব। সেই জবাবের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।’
বাংলাদেশি সরকারি আধিকারিক আরও বলেছিলেন, ‘যদি বন্দি বিনিময় চুক্তি দেখা যায়, তাহলে সেখানে কোনও সময়সীমার উল্লেখ নেই। তাই ভারতের উত্তর পাওয়ার জন্যে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমরা একটা সময় পর্যন্ত বিষয়টি দেখব। যে কোনও ক্ষেত্রে জবাব দেওয়ার একটা স্বাভাবিক সময় আছে। সেই সময়ের মধ্যে জবাব না এলে আরও একটা তাগিদপত্র দেওয়া হবে। তবে এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, এখনই বলা মুশকিল হবে।’
সুত্র: হিন্দুস্তান টাইমস




















