রিফাত আরেফিন : যশোরে একটি বাহিনীর চাকুরীচ্যুত প্রতারক চক্র একটি বাহিনীর অফিসার পদে চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যসহ তিনজনের কাছ থেকে নগদ ৪৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ভুক্তভোগীদের সহযোগীতায় দুই চক্রের দুই প্রতারককে আটক করেছে। এরা হচ্ছে, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বুড়িরচর গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার হাওলাদারের ছেলে ফারুক হোসেন ও নওগাঁ জেলার সাপাহার থানার হোসেন ডাঙ্গা গ্রামের মৃত ফইমুদ্দিন মন্ডলের ছেলে শরিফুল ইসলাম। আটক ও তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে যশোর কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।
মামলাটি করেন, ঝালকাঠি জেলার কাঠাঁলিয়া থানার পশ্চিম চেচরী গ্রামের হারুন-ইর রশিদের ছেলে ইব্রাহীম খাঁন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন,তিনি পূর্বে ওই বাহিনীতে চাকুরী করতেন। গত ২৩ মে বাদি ওই বাহিনী থেকে অবসর গ্রহন করেন। উল্লেখিত অভিযুক্তরা পূর্বে ওই বাহিনীতে চাকুরীরত ছিল। সেই সুবাদে অভিযুক্তদের সাথে বাদির পূর্ব থেকে পরিচয়। অভিযুক্তরা টাকার বিনিময়ে ওই বাহিনীতে চাকুরী দিবে বলে বাদি তাদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে। গত ২৫ মে যশোর শহরের মণিহার সিনেমা হলের দ্বিতীয় তলায় করিডোরে বসে প্রতারক ফারুক হোসেন ও শরিফুল ইসলাম বাদির নিকট থেকে কার্টিজ পেপারের মাধ্যমে চুক্তিপত্র করে নগদ ১৬লাখ টাকা প্রদান করেন।
বাদি ফারুক হোসেনের সাথে বিভিন্ন সময়ে তার মামাতো ভাইয়ের চাকুরীর জন্য যোগযাগ করলে পরবর্তীতে যখন লোক ভর্তি করবে তখন চাকুরী দিবে বলে ফারুক হোসেন বাদিকে জানায়। পরবর্তীতে বাদিকে জানতে পারেন যে অভিযুক্তরা বিভিন্ন মানুষকে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়ছে। পরিচিত জামিল মল্লিক ও শহিদুল ইসলাম চাকুরীর কথা বলে বিভিন্ন সময় জামিল মল্লিক এর নিকট থেকে নগদ ১২ লাখ টাকা এবং শহিদুল ইসলামের নিকট থেকে ১৮ লাখ টাকা উল্লেখিত অভিযুক্তরা গ্রহন করেন। এক পর্যায়ে বাদিসহ তার সহকর্মী বারংবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তারা বিভিন্ন ধরনের তালবাহনা করে আসছে।
এক পর্যায়ে বাদি অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বাদিকে টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে বুধবার ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় যশোর শহরের ম্যাগপাই হোটেলে আসতে বলে। বাদিসহ তার সহকর্মী জামিল মল্লিক ও শহিদুল ইসলাম উক্ত হোটেলে আসে। অভিযুক্তরা অশোভন কথাবার্তা বুঝতে পারেন যে, তারা বাদি ও তার সহকর্মীদের পাওনা টাকা দিবে না। বাদি অভিযুক্তের কাছে টাকা চাইলে তারা বিভিন্ন তালবাহনা সহ নানাবিধ ভয়ভীতি প্রদান করতে থাকে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ তাদেরকে বৃহস্পতিবার ২৮ ডিসেম্বর দুপুরে আদালতে সোপর্দ করে।




















