স্টাফ রিপোর্টার : পাবনার ঈশ্বরদীতে চোরাইকৃত সোনা ও রুপাসহ দুই চোরকে আটক করেছে আমবাগান ফাঁড়ি পুলিশ। কিন্তু সেই স্বর্ণ এবং রুপা আত্মসাৎ করে আসামীদের বাংলামদসহ আটক দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
১৭ নভেম্বর (শুক্রবার) রাত পৌঁনে ৮ টার দিকে ঈশ্বরদী বাজারের চাঁদআলী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন, ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির এ এস আই নুরুন্নবী এবং এস আই আব্দুল হালিম।
আটককৃত ঈশ্বরদীর স্বীকৃত সোনা চোর মোঃ হৃদয় (২৫) উপজেলার ফতেমোহাম্মদপুর রেলওয়ে হাসপাতাল এলাকার মোঃ সাল্লুর ছেলে এবং সিরাজগঞ্জ জেলার জামতৈল এলাকার মোঃ ইউসুফ (৩৫)। পূর্বে হৃদয় ও ইউসুফের বিরুদ্ধে সোনা চুরির একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সোনা ব্যবসায়ী এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাযায়, ঘটনার সময় চাঁদআলী মোড় এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী শ্রী গোপাল কর্মকারের দোকান মণিমুক্তা জুয়েলার্সে কিছু সোনা ও ২ ভরি ওজনের ১ জোরা রুপার নূপুর বিক্রি করতে আসে হৃদয় এবং ইউসুফ।সোনা ও রুপা মনিমুক্তা জুয়েলার্স দোকানে বিক্রি করে চলে যান। ১৫ মিনিট পর আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির এ এস আই নুরুন্নবী ও এস আই হালিম সেখানে গিয়ে তাদের চুরিকরা সোনা আছে বলে আটক করে। সে সময় কোন উপায় না দেখে সোনা ব্যবসায়ী গোপাল কর্মকার চোরদের থেকে নেয়া সোনা ও রূপা পুলিশ সদস্যের হাতে দিয়ে নিজেকে দায় মুক্ত করেন। সে সময় এ এস আই নুরুন্নবী হৃদয়ের একটি ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সায় করে আমবাগান পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।
জানতে চাইলে মণিমুক্তা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী শ্রী গোপাল কর্মকার বলেন, আমি চোরের কাছ থেকে মোট ৩ রতি স্বর্ণ এবং ২ ভরি ওজনের একজোড়া রুপার নূপুর কিনেছিলাম। তবে চোরাই মাল জানার পর এ এস আই নুরুন্নবী ও এস আই হালিম স্যারকে দিয়ে দিয়েছি। উনি ওগুলোসহ চোরদের হাতকড়া পড়িয়ে থানায় নিয়ে গেছে।
জানতে চাইলে এ এস আই নুরুন্নবী বলেন, ঘটনার সময় আমি চাঁদআলী মোড় এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। তাদের দুজনকে রিক্সায় আসতে দেখে আমার সন্দেহ হয়। তখন তাদের গাড়ি গতিরোধ করে তল্লাশি করে তাদের কাছে বাংলা মদ পাই। সুতরাং বাংলা মদ রাখার অভিযোগে তাদেরকে আটক করে আমবাগান ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।
এ সময় আটককৃত আসামীদের নির্দিষ্ট স্থানে না রেখে পুলিশ সদস্যদের বিশ্রাম কক্ষে বসিয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমবাগান ফাঁড়িতে আসামীদের রাখার মত আলাদা কোন জায়গা না থাকায় তাদের বিশ্রাম কক্ষে রাখা হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, আমার ডিউটি শেষ হওয়ার কারণে আমি তাদেরকে এস আই আব্দুল হালিমের কাছে হস্তান্তর করে বাসায় চলে আসি। তবে তাদের দুজনের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দিয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে এ এস আই নূরন্নবী ডিউটি থাকা অবস্থায় তার সঙ্গে কোন পুলিশ ফোর্স না থাকায় তিনি সাধারণ পাবলিককে নিয়ে আসামি ধরতে যান। অবস্থা বেগুত দেখে পরে এস আই হালিম কে ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোন করে ডেকে নিয়ে যান।
জানতে চাইলে এস আই হালিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইলের কল রিসিভ করেন নি।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত এ এস আই নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে মায়াবড়ি দিয়ে সাধারণ মানুষকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানিয়ে হয়রানী করা, মাদকের আসামী ধরে নগদ টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়া, চুরির মোবাইল উদ্ধার করে মোটা অংকের উৎকোচ নেয়াসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।




















