ইমাম হাছাইন পিন্টু : নাটোরের সিংড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডের আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে প্রকাশ্যে দেশি অস্ত্র হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা।
সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌর যুবলীগের সভাপতি লাবু হাসান জনির নেতৃত্বে এ মিছিল করা হয়। ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মিছিলকারীরা চলে যান। এরই মধ্যে এ ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, অর্ধশত বিক্ষোভকারী রামদা নিয়ে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে মহড়া দিচ্ছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা স্বীকার করে লাবু হাসান জনি বলেন, সিএনজি স্ট্যান্ডের (সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি) সভাপতি সেলিম রেজা ও সাধারণ সম্পাদক রঞ্জু আহমেদ বছরের পর বছর সিংড়ার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের জিম্মি করে চাঁদা তুলছেন। তারা একটি সমিতির নামে প্রতিটি অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ টাকা চাঁদা আদায় করছেন। সব অটোচালক ক্ষুব্ধ হয়ে এই মিছিলের আয়োজন করে। আমিও সেখানে ছিলাম।
মিছিলে সবার হাতে অস্ত্র থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সমর্থকরা মনে করেছিল আমার ওপর আক্রমণ হয়েছে, তাই তারা এগুলো নিয়ে এসেছিল।
জেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিংড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জু আহমেদ বলেন, আমাদের সমিতি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। এতদিন কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এখন তারা (বিক্ষোভকারীরা) বিনা কারণে উসকানি দিচ্ছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রসহ মিছিল নিয়ে এসে আমাদের অফিস ভাঙচুর করেছে, আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এখন আমি পালিয়ে আছি।
তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনে আমরাও নৌকার ভোট করেছি। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী (শফিকুল ইসলাম শফিক) আমাদের প্রতিবেশী হওয়ায় আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন স্বতন্ত্রের পক্ষে নির্বাচন করে। সেই রাগে তারা এমন করছে।
সিংড়া থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে টাকা তোলা নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। লাঠিসোটা নিয়ে মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।
পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস দুপক্ষকে নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।




















