সোহেল রানা, ঢাকা : রাজধানীর বনানীতে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেছে চাঁদাবাজ, মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীরা। এমন অভিযোগ এসেছে। উক্ত ওয়াজ মাহফিল বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বাদ আছর থেকে বনানীর টিএন্ডটি মাঠে শুরু হয়েছে। অভিযোগ এসেছে ওয়াজ মাহফিলটি আয়োজনের জন্য কড়াইল বস্তির ব্যবসায়ী-দোকানদারদের কাছ থেকে জোর পূর্বক চাঁদা আদায় করা হয়েছে আয়োজকরা।
একজন মো. খরুম। ৫ আগষ্টের আগে যিনি ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা। আরেকজন কাজী রফিকুল ইসলাম। যিনি ছিলেন বনানী থানা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ ২০নং ওয়ার্ড বেলতলা ইউনিটের সিনিয়র-সভাপতি। তারা দু’জনেই এখন খোলস বদলে বিএনপি নেতা বনে গেছেন। বিএনপির সাইনবোর্ডে বেলতলা এলাকার চাঁদাবাজির দখল নিয়েছেন। কথিত আছে তারা কয়েকজন বিএনপি নেতাকে টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন। ম্যানেজ করে নিয়েছেন থানার ওসিকেও। এসব চিহ্নিত চাঁদাবাজরাই আয়োজন করেছেন ওয়াজ মাহফিলের।
এসব নামধারী আওয়ামী লীগের নেতারা কিভাবে বিএনপির পরিচয়ে আবার চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে খোদ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ত্যাগী জেলখাটা বিএনপি নেতারা বলছেন, এসব অনুপ্রবেশকারীরাই বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
স্থানীয়রা বলেন, ‘খরুম ও কাজী রফিক আগে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাছিরের পক্ষে চাঁদাবাজি করতেন। নাছির ছিলেন বনানী থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।’
অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ওয়াজ মাহফিল আয়োজনটাও তাদের চাঁদাবাজির কৌশল মাত্র। মাহফিলের নামে যা চাঁদা তুলবে তার অর্ধেকও খরচ করবে না। বাকিটা তারা ভাগ বাটোয়ারা করে নিবে। এভাবে মাহফিল আয়োজনের কোনো সার্থকতা নেই।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বনানী এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান রুবেল খরুম ও কাজী রফিককে পাশে রেখে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিয়ে লিখেছেন, ‘ওয়াজ মাহফিল সফল করার উদ্দেশ্যে কালেকশন শেষে আলোচনা, সকলে দোয়া করবেন মাহফিল যেন সফল হয়।’
ইয়াবা ব্যবসায়ী রুবেল ওরফে নাডা রুবেল নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করলেও শেখ হাসিনা সরকার পতনের আগে তাকে ২০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যেত। তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এখন বলে বেড়াচ্ছেন বিএনপি করতেন বলে এসব তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। যদিও এখন তিনি বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে শেল্টার দিচ্ছে খরুম ও রফিকের মতো লোকেরা।
এদিকে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কাজী রফিক মুখ ভর্তি দাড়ি এবং পায়জামা পাঞ্জাবি পড়ে ঘুরে বেড়ালেও প্রতিদিন সন্ধ্যায় বারে গিয়ে মদ খান। রাতে বেলতলা এলাকার চায়ের দোকানে বসে করেন মাতলামি।
এমন চাঁদাবাজ, মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের ওয়াজ মাহফিল আয়োজন নিয়ে গোটা এলাকা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও উঠেছে নিন্দার ঝড়।




















