যশোর অফিস : যশোর শহরের মাইকপট্টি এলাকায় একজন দোকান কর্মচারীর সাথে যবিপ্রবি ছাত্রদের মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। গ্যাসের চুলা কেনা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হলেও একপর্যায়ে বিষয়টি উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রুপ নেয়। এময় মাইকপট্টিসহ আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ যায়। এমনকি যশোরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দও ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তাদের কয়েকজনকেও লাঞ্ছিত করেন যবিপ্রবির ছাত্ররা। এ ঘটনায় দুইপক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন। একপর্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, রোববার রাত ৮টার পর যবিপ্রবির ৫০/৬০ জন ছাত্র অগ্রণী ব্যাংকের সামনে মেহেদী ইলেকট্রিকের বিক্রেতা রুবেলের উপর হামলা চালান। ব্যবসায়ীরা একট্টা হয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। তবে, ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন।
যবিপ্রবি ছাত্রদের অভিযোগ, ওই দোকানে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সজিব ইসলাম খান আসেন একটি গ্যাসের চুলা কিনতে। এসময় দোকানি বেশ কয়েকটা চুলা দেখান। কিন্তু জসিমদের সেগুলো পছন্দ হয়না। এক পর্যায়ে তারা অন্য দোকানে চলে যেতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মেহেদী ইলেক্টনিক্সের বিক্রেতা। এসময় জসিমকে লাঞ্ছিত করা হয়। এমনকী তাকে অন্য ব্যবসায়ীরা একসাথে হয়ে মারপিট ও নানা ধরণের হুমকি দেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্ররা একাট্টা হয়ে মেহেদী ইলেক্টনিক্সে যান। কেন মারা হলো এটা জানতে চাওয়া নিয়ে ববসায়ীরা তাদেরকে লাঞ্ছিত করেন।
এদিকে, মেহেদী ইলেক্টনিক্সের মালিক মেহেদী হাসান বলেন, সন্ধ্যায় ওই ছাত্র অন্য একজনকে নিয়ে তাদের দোকানে যান গ্যাসের চুলা কিনতে। বেশ কয়েকটি চুলা দেখিয়ে একটি চুলা ১৩শ’ টাকা দামদর ঠিক হয়। তারা রাজিও হন। কিন্তু গ্যাসের চুলার সাথে অন্যান্য সরঞ্জামও তাদের কাছে ফ্রী দাবি করেন ছাত্ররা। ছাত্রদের বলা হয়, ওইসব সরঞ্জামের জন্য পাঁচশ’ টাকা দিতে। কিন্তু তারা রাজি হননি। পরে দোকানিকে হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যান। রাতে তার দোকানে আকস্মিক হামলা চালান যবিপ্রবির ছাত্ররা। এতে রুবেল আহত হন।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের কয়েকজন নেতা বলেন, যবিপ্রবির ছাত্রদের মারপিটের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জড়ো হয়েছে এমন খবর পেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এর আগেই একদল ছাত্র অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়। এসময় তাদের কয়েকজন ঠেকাতে যেয়ে মারপিটের স্বীকার হন বলে অভিযোগ করেন তারা।
যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ, ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে। বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে।



















