কাকন সরকার, শেরপুর :
শেরপুরে চালকলের মাঠে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হাবিবুর রহমান তালুকদার ওরফে লেমনকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে ও জড়িত সকল আসামির গ্রেপ্তার ও ফাঁসির শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
বুধবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শেরপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনতার ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
নিহত হাবিবুর রহমান তালুকদার ওরফে লেমন পৌরসভার দিঘারপাড় এলাকার ধান–চাল ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা তালুকদারের ছেলে।
উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য নূরুল ইসলাম তালুকদার, নিহত লেমনের বাবা গোলাম মোস্তফা তালুকদার, মা হাসনা বানু, বোন মিতালী বেগম, ফুফু (বাবার বোন) রাশিদা বেগম, প্রতিবেশী আব্দুল গনি, মো. শাহজাহান প্রমুখ ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত শুক্রবার দিঘারপাড় এলাকায় নিহতর বাবার মালিকানাধীন চালকলের মাঠে কয়েকজন তরুণ ক্রিকেট খেলতে যান। এ সময় হাবিবুর তাঁদের কে ক্রিকেট খেলতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই তরুণেরা (হাবিবুর রহমান লেমন) কে ক্রিকেটের ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
এলাকাবাসী আহত লেমন কে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন লিমনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে পরবর্তীতে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মহাখালী মেট্রোপলিটন মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার রাতে ঢাকার মহাখালী মেট্রোপলিটন মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবিবুর রহমান লেমন মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত হাবিবুর রহমান লেমনের বাবা বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
কিন্তু হাবিবুর রহমান লেমন এর মৃত্যুর পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এতে নিহতের পরিবারে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত এলাকার জনসাধারণ ও (নিহতের) বাবা-মা আত্মীয়-স্বজন লেমনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও আসামিদের দ্রুত বিচারসহ ফাঁসির দাবি জানান তাঁরা। কর্মসূচিতে তিন শতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেন।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুবায়দুল আলম বলেন, হাবিবুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আশা করা যায়, শিগগিরই তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।




















