স্টাফ রিপোর্টার, নেত্রকোনা: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে ভূমিদস্যু বাদল মিয়ার অত্যাচারে অসহায় হয়ে পড়েছে লুৎফর রহমান কাঞ্চনের পরিবার। বাদল মিয়া কাঞ্চনের পৈত্রিক সম্পত্তির বাড়ি ও পুকুর জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন, সেই সঙ্গে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাছপালা কেটে নিয়েছেন। এলাকাবাসীদের সাক্ষ্য অনুসারে, বাদল মিয়া কাঞ্চনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এবং কাঞ্চন কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেছেন।
পাহাড়পুর গ্রামের মৃত নায়েব আলীর ছেলে বাদল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভূমিদস্যুতার জন্য কুখ্যাত। একই গ্রামের মৃত আব্দুল বারেক সরকারের ছেলে মো. লুৎফর রহমান কাঞ্চনের পৈত্রিক সম্পত্তিতে তিনি জোরপূর্বক দখল করেছেন।
কাঞ্চনের বসতবাড়িতে অবৈধভাবে ঘর তুলেছেন বাদল মিয়া। এছাড়া, ২০ শতাংশ পুকুরের অংশ দখল করে নিয়েছেন।মেহগনি, রেইনট্রি, সুপারি, মেহেদীসহ অর্ধশতাধিক কলাগাছ কেটে নেওয়া হয়েছে, যার বাজার মূল্য লক্ষাধিক টাকা।
কাঞ্চনের সম্পত্তির CS, BRS, ROR ও দাগ নম্বর সঠিক থাকা সত্ত্বেও দখল চলছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
সরেজমিনে পরিদর্শনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে। বাদল মিয়া কাঞ্চন ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন, যার মধ্যে মামলা-হামলার হুমকি অন্যতম। তিন বছর আগে স্বপন, সুজন ও রাব্বি মিলে কাঞ্চনকে মারধর করে তার হাত ভেঙে দিয়েছেন। বাদল মিয়ার নির্দেশে একই এলাকার মুর্শেদ আলীর ছেলে সুজন ও রাব্বি বারবার কাঞ্চন ও তার স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় দেনদরবার করে কোনো লাভ হয়নি। উলটে বাদল মিয়া কাঞ্চনের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
বাদল মিয়া দাবি করেছেন, তারও সম্পত্তিতে অংশ রয়েছে এবং বিষয়টি আইনি মোকাবিলায় চলছে।
পাহাড়পুরের মঞ্জু মিয়া, বৈশ্যবাট্টার আরিফ আহমেদ, রব্বানী ভূঁইয়া রাজু, বাবুল মিয়া ও সুমন মিয়া জানিয়েছেন: বাদল মিয়া কাঞ্চনের পুকুরের ২০ শতাংশ অংশ, বসতবাড়িতে ঘর, বনের লাছ এবং বিভিন্ন গাছ কেটে নিয়েছেন।
এলাকার সুধীজন রাজু ভূঁইয়া বলেন, “কাঞ্চনের পৈত্রিক সম্পত্তি বাদল মিয়ার কবল থেকে ফিরিয়ে আনতে সামাজিকভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসে মীমাংসা করার উদ্যোগ কয়েক দিনের মধ্যেই নেওয়া হবে।”
লুৎফর রহমান কাঞ্চন জানান, “বাদল মিয়া ও তার কুচক্রী মহলের সহযোগিতায় আমার পৈতৃক সম্পত্তির বাড়িতে জোরপূর্বক ঘর তুলে, ২০ শতাংশ পুকুরের অংশ দখল ও বিভিন্ন জাতের গাছ কেটে নিয়েছে, যার মূল্য লক্ষাধিক টাকা। সে আমাদের ওয়ারিশান নয়। আমি ও আমার স্ত্রী আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমার সম্পত্তি ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
এই ঘটনা নেত্রকোনা জেলায় ভূমিদস্যুতার একটি উদাহরণ, যা অসহায় মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সামাজিক মীমাংসার উদ্যোগ সফল হোক, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।




















