পঞ্চগড় প্রতিনিধি: কিছুদিন আগে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের চুচুলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারী জমিতে দোকানঘর নির্মাণের চেষ্টা চালান প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক শোভন নেওয়াজ। সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে আটোয়ারী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফুয়াদের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দেয়। দোকান ঘর নির্মাণের মূলহোতাকে খুঁজতে অনুসন্ধান করে এ প্রতিবেদক।
অবৈধ স্থাপনার দোকান ঘর প্রত্যাশী মো. শামীম মুঠোফোনে বলেন, একটি দোকানঘর আমি নিতে চেয়েছিলাম। সেজন্য ৩৫ হাজার টাকা প্রধান শিক্ষক শোভন নেওয়াজকে দিয়েছি। কিন্তু ঘরগুলো প্রশাসন ভেংগে দেওয়ার পরেও তিনি টাকা ফেরত দেননি৷ মোট ৯ জন দোকান ঘর প্রত্যাশীর কাছে প্রধান শিক্ষক শোভন নেওয়াজ ৩৫ হাজার করে মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকান ঘর প্রত্যাশী বলেন, প্রথমে দোকান নির্মাণ বাবদ তিনি (প্রধান শিক্ষক) সহ তার সহযোগিরা ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যদি উপজেলা প্রশাসন দোকান ঘরগুলো উচ্ছেদ না করত, যদি দোকানঘর গুলো নির্মাণ হয়ে যেত, তাহলে ঐ ৯ জন দোকান ঘর প্রত্যাশীর কাছে সর্বনিম্ন ৩ লাখ করে টাকা জামানত বাবদ নিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতেন প্রধান শিক্ষক শোভন নেওয়াজ।
এদিকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে চুচুলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শোভন নেওয়াজ বলেন, আমি নিজে উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ঘর নির্মান করতে চেষ্টা চালিয়েছে বিএনপি। তবে বিএনপির কোনো নেতার নাম বলেননি প্রধান শিক্ষক শোভন নেওয়াজ।
এ বিষয়ে বলরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সাদ্দাম হোসেন বলেন, তিনি (প্রধান শিক্ষক) যে বলতেছে তিনি প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আপনি তদন্ত করে দেখেন। তিনি লিখিত অভিযোগ দিলো, নাকি এটার সাথে কী অবস্থায় আছে ! প্রধান শিক্ষকের আগে মুঠোফোনে প্রশাসনকে আমি বিষয়টি অবগত করেছিলাম।
এ বিষয়ে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে অবগত আছি। টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতাম না। তবে এটা সন্দেহ হয়েছে, তিনি (প্রধান শিক্ষক) আমাদেরকে প্রথমে বিষয়টি জানান নি। আমরা আপনাদের সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তারপরে তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উনার (প্রধান শিক্ষক) প্রথমে আমাদের জানানোর উচিৎ ছিলো। টাকা নেওয়ার বিষয়টি যদি সত্য হয়, আপনার কাছে তথ্য প্রমাণ থাকলে আমাদের সরবরাহ করেন, আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।




















