আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানের শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক মন্ত্রী খলিলুর রহমান হাক্কানি আত্মঘাতি হামলায় নিহত হয়েছেন। ১১ ডিসেম্বর দুপুরে শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদর দফতরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে খলিলুর রহমান হাক্কানিকে হত্যা করা হয়। তিনি সদর দফতরের মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী নিজেকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়। এই হামলায় শরণার্থী মন্ত্রীসহ অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও কয়েকজন।
এখনও কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার না করলেও প্রাথমিককভাবে এই হামলার জন্য খারিজি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আইএসকে সন্দেহ করা হচ্ছে। কারণ গোষ্ঠীটি খুঁজে খুঁজে সেসব মুজাহিদ কমান্ডারকে হত্যা করে, যারা আফগানিস্তানে আমেরিকার পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
এর আগে ২০২২ সালে সিরাজুদ্দিন হাক্কানির দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে খারিজি সন্ত্রাসী আইএসের আত্মঘাতী হামলায় চারজন নিহত হয়। গত বছর সন্ত্রাসীগোষ্ঠিটি আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আঙিনায় আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করে।
খলিলুর রহমান হাক্কানি প্রবীণ মুজাহিদদের মধ্যে অন্যতম দুঃসাহসী কমান্ডার ছিলেন। তিনি আশির দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আফগান জিহাদে অবদান রাখার পাশাপাশি হাক্কানি নেটওয়ার্কের কমান্ডার হিসেবে আমেরিকার আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। খলিলুর রহমান হাক্কানির দুঃসাহসী অভিযানে পর্যুদস্ত আমেরিকা তাঁর মাথার মূল্য ৫ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করে।
উল্লেখ্য, খলিলুর রহমান হাক্কানি হলেন পশ্চিমা সন্ত্রাসীদের আতঙ্ক প্রখ্যাত হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা জালালউদ্দিন হাক্কানির ভাই এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খলিফা সিরাজুদ্দিন হাক্কানির চাচা। তিনি ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ থেকে শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। নিঃসন্দেহে তাঁর শাহাদাত আফগানিস্তান ইসলামি ইমারাতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি, যাঁর স্থান কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
খলিলুর রহমান হাক্কানির ভাতিজা আনাস হাক্কানি বলেছেন, “আমরা অত্যন্ত সাহসী একজন মুজাহিদকে হারালাম। আমরা তাঁকে ও তাঁর আত্মত্যাগ কখনই ভুলব না।”




















