ডেস্ক রিপোর্ট॥ আবারও পুড়ে ছাই হল রোহিঙ্গা শিবির। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে দুই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে যার মধ্যে বেশকিছু দোকানপাটও রয়েছে।
দুপুর পৌনে তিনটার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পার্শ্ববর্তী ক্যাম্প গুলোর মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় তারা বয়স্ক, অসুস্থ, শিশুদেরসহ প্রয়োজনীয় মালামাল গুলো নিরাপদ দূরত্বে রাখতে ছোটাছুটি করতে থাকেন।
আগুন লাগার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট, সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক দল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে থাকেন পরে একে একে যুক্ত হয় ফায়ারসার্ভিসের বাকী ৫টি ইউনিট। মাঝে সময় আগুনে জ্বলতে থাকা মরা গাছতলা সংলগ্ন কক্সবাজার-টেকনাফ রোডের দু’পাশের যান চলাচল বন্ধ করা হয়।
রোববার দুপুর তিনটার দিকে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।
ওসি মোহাম্মদ আলী জানান, আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। আগুনের খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে কক্সবাজারের উখিয়া এবং বালুখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত উখিয়ার ক্যাম্পের বাসিন্দা শফিক উল্লাহ জানান, ‘আগুনে সব পুড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখানে দুই হাজার ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। এর মধ্যে বেশকিছু দোকানপাটও ছিল। এখানে বারবার আগুন লাগার পেছনে রহস্য রয়েছে। ফলে ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।’
উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইন চার্জ (সিনিয়র সহকারী সচিব) সরওয়ার কামাল জানান, ‘প্রায় ২ ঘন্টা পর শিবিরে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ শুরু করছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি- ২ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। কীভাবে আগুনের ঘটনা ঘটছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’




















