মোহাম্মদ জুবাইর॥ কে এই দলাল শামীম, তার খুঁটির জোর কোথায়? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাইওয়ে পুলিশের ছত্রছায়ায় এক সময়ে রাস্তার টোকাই সিএনজি চালক এখন কোটি টাকার মালিক। ভিক্ষা বৃত্তি ও টোকাই পেশা দিয়ে শৈবব কাটানো শামীম একসময় চালাতেন সিএনজি, পাশাপাশি খাল বিলে কুড়াতেন কাগজ, বোতল। সিএনজি চালাতে গিয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে এবং অসংখ্য অসাধু পুলিশের সাথে। সেই সখ্যাতায় শামিম হয়ে উঠেন থানার মূল অর্থ যোগানের মেশিন।
এলাকাবাসী ও একাধিক সিএনজি ড্রাইভারদের অভিযোগ আছে , ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ দালাল শামীমকে দিয়ে ৪ শতাধিক সিএনজি ট্রাক্টর মালিক ও চালকের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নেন। আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে যে, চালক মাসোহারা না দিবে তাদের গাড়ি করে দিবে টু কোন গাড়ি উঠতে পারবে না রাস্তায় এবং চালাতে দিবে না গাড়ি। অনেক ড্রাইভার মার ধরের শিকার হয়েছে বহুবার। দালাল শামীমের অত্যাচারে অতিষ্ঠ চালকরা।
এদিকে মাসিক টাকার বিনিময়ে কুমিল্লা -সিলেট মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা সাথে রয়েছে পিকআপ ভ্যান ও ট্রাক্টর।
কুমিল্লা সিলেট হাইওয়ে রোডে কুটিচৌমুহনী হইতে কালামোড়া এলাকয় শামীমের নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ একটি টিমসহ নিয়মিত টুকেন বানিজ্য করছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। এই সড়কে গাড়ি প্রতি টুকেন নামে হাতিয়ে নিচ্ছে ১৫০০ টাকা। এবং অত্র হাইওয়ে রোডে প্রথমত কোন গাড়ি যদি প্রবেশ করে চালককে দিতে হবে এককালীন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। যার বদৌলতে হাইওয়ে রোডে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সিএনজি চালক মোহাম্মদ লোকমান, মোহাম্মদ আশেক, মোহাম্মদ লিটন, মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ জীবন, মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ সফিক,মোহাম্মদ কুদ্দুস, মোহাম্মদ দুলাল, মোহাম্মদ ফারুক, মোহাম্মদ জীবন, আকাশ, জাহাঙ্গীর, নাছির, মিন্টু, মনির, সহ আরো শত শত চালকেরা।
এলাকাবাসীর তথ্য মতে, আরো অভিযোগ আছে দালাল শামীম কালা মোড়া ব্রিজের আসপাশের সরকারি জমির মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।
আরো অভিযোগ রয়েছে শামীম মাদক মামলার পলাতক আসামি হয়েও হাইওয়ে পুলিশের ছত্রছায়া প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে করছে টোকেন বানিজ্য।
সরজমিনে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার শাহ পুর গ্রামের ছেলে শামীম টুকাই থেকে আজ বিশাল অট্টালিকার মালিক । আর রয়েছে ব্যাংক ভর্তি টাকা । এখন স্থানীয়দের প্রশ্ন শামীমের এই টাকার উৎস কোথায় থেকে। যে শামীয একসময় এলাকায় খাল বিল নর্দমায় কাগজ বোতল কুড়াতেন এবং সিএনজি চালিয়ে কোন রকম সংসার চলাত তার এখন মাসিক ইনকাম লক্ষ লক্ষ টাকা। দুই মাস পর পর কিনেন নিত্যনতুন দামি বাইক । চলাফেরায় মন্ত্রী-এমপি রাজকীয় ভঙ্গি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্টিকারের পরিবর্তনে মোবাইল নাম্বার ও শামীমের নামে চলে অবৈধ টোকেন বানিজ্য। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে টাকার বিনিময়ে দালাল শামীমের নামে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ইটের ভাঁটার অবৈধ ট্রাক্টার ও ড্রামট্রাক ।
এ বিষয় জানতে চাইলে নাম না প্রকাশ করা একাধিক চালকরা বলেন, দালাল শামীম আমাদের নিকট থেকে মাসে গাড়ি প্রতি নিচ্ছে ১৫০০-২০০০ টাকা। মোবাইল নাম্বরে চালকের নাম মাধ্যমে সিএনজি চলাচলের সুযোগ দেয় হাইওয়ে পুলিশ। পুলিশের ছত্রছায়ায় সিএনজি চালক সামীম কোটি টাকার মালিক বনেছেন বিগত কয়েক বছরে।
শামীমের অভিনব চাঁদাবাজির কৌশলে দিনের পর দিন চালকদের কাছ থেকে হাইওয়ে পুলিশ হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। হাইওয়ে পুলিশের এমন চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল, অন্য দিকে দলাল সামীমের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সিএনজি অটোরিকশা চালক ও মালিকরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিটি সিএনজি থেকে ২ হাজার আর ট্রাক্টর থেকে ৩ হাজার করে মাসে কয়েক লাখ টাকার চুক্তি করে। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে হাইওয়ে থানার সামনে দিয়ে এসকল নিষিদ্ধ যানবাহন মহাসড়কে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আর এই সিএনজি ও ট্রাক্টর টাকা ওসির নামে উত্তোলন করছে চিহ্নিত দালাল এবং সিএনজি শ্রমিক নেতা।




















