রংপুর ব্যুরো :
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় শনিবার রাতে হঠাৎ শুরু হওয়া ধুলিঝড় ও দমকা হাওয়ার সাথে বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে। মাত্র আধা ঘণ্টার এই দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিভিন্ন গ্রামের ঘরবাড়ি, ভেঙে পড়েছে গাছপালা, আর মাঠে পড়ে গেছে কৃষকের ভুট্টা ও ধানগাছ। কালবৈশাখী ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে এবং উড়ে যাওয়া টিন দিয়ে দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যদিও সৃষ্ট দূর্যোগে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাত ১০ পরে হঠাৎ আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে। এরপর ধুলিঝড় শুরু হয় এবং দমকা ঘূর্ণিবাতাসের সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি নামে। এর ফলে বহু বাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায়, গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এলাকার বিভিন্ন সড়কে গাছ পড়ে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার ৫ দোনের (২২ শতাংশে দোন) জমির ভুট্টা একদম মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ফলন ভালো হচ্ছিল, কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে সব শেষ। এখন ধার দেনা শোধ করাও কষ্ট হবে।
একই এলাকার কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, আগাম বোরো ধান কাটা শুরু করার চিন্তা করেছিলাম মাত্র, এর মধ্যেই অনেক জমির ধান ঝড়ে পড়ে গেছে। “এভাবে যদি পড়ে থাকে, ধান পচে যাবে।
আলমবিদিতর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের উজিরপাড়ার কৃষক সুজা মিয়া জানান, থাকার ৪ টি ঘর ও গাছপালাসহ প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের ( স্থগিত পদ) চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান তাদের আইডিতে পোস্ট দিয়ে,বলেন, লক্ষীটারীতে ফসলের ক্ষতিসহ ঘড় পড়ে আহত হয়েছে ১ জন এবং মর্ণেয়ায় ১৫ মিনিটের ঝড়ে উপড়ে পড়েছে হাজার হাজার গাছ, উড়ে গেছে ঘরবাড়ি।
গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের নারী ইউপি সদস্য ফরিদা আক্তার জানান, সদর ১ নং ওয়ার্ডে “গাছ পড়ে বেশ কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এদিকে গঙ্গাচড়া উপজেলায় রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ সরাতে গিয়ে রাতে অন্তত ২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুরুজ মিঞা নামে একজনকে জরুরী চিকিৎসা দিয়ে রংপুরে রেফার করা হয়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গতকাল রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে। বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৫০-৬০ কিলোমিটার। এছাড়া রাতে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর আগে সুনির্দিষ্ট কোনো সতর্কতা দেওয়া সম্ভব হয়নি কারণ এটি হঠাৎ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহিনুর ইসলাম জানান, ঝড়ে উপজেলায় ১২০ হেক্টর জমির ভুট্টা ও ৬০ হেক্টর ধানক্ষেত আক্রান্ত হয়েছে। ঝড়ে আক্রান্ত হেলেপড়া ভুট্টাগাছ দাড় করিয়ে দিলে ক্ষতির পরিমাণ কমতে পারে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে সরকারিভাবে প্রণোদনা পেলে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হবে।
এদিকে গতকাল রাত থেকেই উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। পল্লী বিদ্যু সমিতি গঙ্গাচড়া উপজেলার এজিএম খাদেমুল ইসলাম জানান, ঝড়ে প্রায় ১০ টি বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ পড়ে গেছে এবং ৪০ টির বেশি গাছ বিদ্যুৎতের লাইনের তারে পড়ে আছে এজন্যই আমাদের লাইন সচল করতে বেগ পেতে হচ্ছে তবে আমরা চেষ্টা করছি অল্প সময়ের মধ্যে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সংযোগ দেয়ার।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে।




















