মোঃ ফয়জুল আলী শাহ কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে গতকাল রাত থেকে ঘিরে রাখা বাড়িটি থেকে নারী ও শিশুসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে চারজন পুরুষ, ছয়জন নারী ও তিনজন শিশু।
গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে উপজেলার ১৩ নম্বর কর্মধা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা টাট্টিউলি গ্রামের বাইশালীবাড়ি এলাকার ওই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। আজ শনিবার (১২ আগস্ট) সকাল ৭টায় অভিযান শুরু করে সিটিটিসি।
বেলা ১১টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
সিটিটিসির সোয়াত টিমের ‘অপারেশন হিল সাইড’ নামে অভিযান শেষে সিটিটিসি প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, কুলাউড়ায় যে জঙ্গিরা আস্তানা করেছিল, তারা বাংলাদেশে নতুন উগ্রবাদী ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’ নামক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। এক সপ্তাহ আগে খবর পাই মৌলভীবাজার জেলার কোথাও নতুন এই উগ্রবাদী সংগঠনের আস্তানা রয়েছে। গতকাল শুক্রবার আমরা গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে নিশ্চিত হই কুলাউড়া উপজেলার নির্জন পাহাড়ি এলাকা পূর্ব টাট্টিউলিতে সে আস্তানা।
সে মোতাবেক শুক্রবার রাত থেকে মৌলভীবাজার জেলা ও কুলাউড়া থানা পুলিশ আস্তানাটিকে ঘিরে রাখে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ শনিবার ভোরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসি সোয়াত টিম অভিযানে নামে। বিনা বাধায় আস্তানা থেকে চারজন পুরুষ, ছয়জন নারী ও তিন শিশুকে আটক করা হয়। অভিযানে আস্তানা থেকে বিস্ফোরকসহ জিহাদী বই, টাকা উদ্ধার করা হয় বলেও জানান তিনি।

কুলাউড়া থেকে জ.ঙ্গী সন্দেহে আ.ট.ক.কৃত ১৩ জনের নাম ঠিকানা: ১। শরীফুল ইসলাম (৪০), পিতা-ওমর আলী, মাতা-ছমিরুন, গ্রাম-দক্ষিণ নলতা, থানা ও জেলা-সাতক্ষীরা, ২। হাফিজ উল্লাহ (২৫), পিতা-আবুল কাশেম, মাতা-জহুরা খাতুন, সাং-কানলা, থানা-ইটনা, জেলা-কিশোরগঞ্জ, ৩। খায়রুল ইসলাম (২২), পিতা-নজরুল ইসলাম, মাতা-সানোয়ারা বেগম, গ্রাম-রসুলপুর, থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়নগঞ্জ, ৪। রাফিউল ইসলাম (২২), পিতা-সাইফুল ইসলাম, মাতা-রেবা সুলতানা, গ্রাম-মাইজবাড়ী, থানা-কাজীপুর, জেলা-সিরাজগঞ্জ, ৫। মেঘনা (১৭), স্বামী-খায়রুল ইসলাম, পিতা-মানিক মিয়া, মাতা-আলেয়া বেগম, গ্রাম-রসুলপুর, থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়নগঞ্জ, ৬। আবিদা (১২ মাস), পিতা-খায়রুল ইসলাম, মাতা-মেঘনা, গ্রাম-রসুলপুর, থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়নগঞ্জ, ৭। শাপলা বেগম (২২), পিতা-মজনু মল্লিক, স্বামী-আঃ ছত্তার, মাতা-আলেয়া বেগম, গ্রাম-শ্রীপুর, থানা-আটঘরিয়া, জেলা-পাবনা, ৮। জুবেদা (১৮ মাস), পিতা-আঃছত্তার, মাতা-শাপলা বেগম, গ্রাম-শ্রীপুর, থানা-আটঘরিয়া, জেলা-পাবনা, ৯। হুজাইফা (০৬), পিতা-আঃছত্তার, মাতা-শাপলা বেগম, গ্রাম-শ্রীপুর, থানা-আটঘরিয়া, জেলা-পাবনা, ১০। মাইশা ইসলাম (২০), পিতা-সাইদুল ইসলাম, স্বামী-সোহেল তানজীম রানা, গ্রাম-চাদপুর (পিতার বাড়ী), থানা ও জেলা-নাটোর, ১১। মোছাঃ সানজিদা খাতুন (১৮), পিতা-আব্দুল জলিল, স্বামী-সুমন মিয়া, গ্রাম-নিজবলাই, থানা-শরিয়াকান্দি, জেলা-বগুড়া, ১২। আমিনা বেগম(৪০), পিতা-জলমত খা, স্বামী-শফিকুল ইসলাম, গ্রাম-দক্ষিন নলতা, থানা-তালা, জেলা-সাতক্ষীরা, ১৩। মোছাঃ হাবিবা বিনতে শফিকুল (২০), পিতা-শফিকুল, মাতা-আমিনা বেগম, গ্রাম-দক্ষিন নলতা, থানা-তালা, জেলা-সাতক্ষীরা।
সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, জঙ্গি আস্তানা গড়তে কুলাউড়া পাহাড়ে ৫০ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে তারা বসবাস করছিলেন।
আরো অনেকে এই আস্তানায় ছিল বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। আমরা সকলকে দ্রুতই আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব।’




















