শেখ শফিউল আলম লুলু, ঝিনাইদই॥ ঝিনাইদহের উপজেলা গুলোতে বাণিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে সজনি পাতার চাষ। সজিনা পাতাকে বলা হয় অলেীকিক পাতা। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব। গবেষকরা বলছে সজিনা পাতা হচ্ছে নিউট্রিশন্স সুপার ফুড। পুষ্টি ও ওষুধি গুনাগুনের কারনে সুপার ফুড সবার পরিচিত এই সজিনা।
ঝিনাইদহে উপজেলা গুলোতে বাণিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে সজনি পাতার চাষ । এই জেলায় অধিকাংশ বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত জমি, রাস্তার পাশে কৃষকরা সজিনা গাছ লাগিয়ে থাকে। তবে এবার বাণিজ্যিক ভাবে জমিতে সজিনার চাষ করা হচ্ছে পাতা সংগ্রহের জন্য। জেলার শতাধিক কৃষক সজিনা গাছ বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ করছে। কৃষকরা কাচা সজিনা পাতা প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ৮টাকা দরে। আর প্রতি কেজি শুকনা পাতা বিক্রি করছেন ৪০০ টাকা কেজি। লাভজনক হওয়ায় গৃহিনীরা বাড়ির কাজের পাশাপাশি এই কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছে। কৃষক ও গৃহিনীদের কাছ থেকে সজিনা পাতা ক্রয় করছে জিটি মরিংগা নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
কালীগঞ্জ উপজেলার ভোলপাড়া গ্রামের সজিনা চাষী তৌহিদুর রহমান বাড়ির পাশে প্রায় ২ বিঘা জমিতে সজিনা চাষ করেছেন। মুলত তিনি পাতা বিক্রির জন্য এইগাছ চাষ করেছেন। তবে সজিনা গাছ থেকে সজিনার ডাটা তিনি বিক্রি করবেন। হাইব্রিড ওডিসি-৩ জাতের সজিনা তিনি চাষ করেছেন। তৌহিদ জানান, সজিনা পাতা ও ডাটা দুটোই পাওয়া যায়। প্রতি কেজি কাচা পাতা বিক্রি করেন ৮-১০টাকা দরে। আর শুকনো পাতা প্রতি কেজি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। বারোমাসি সজিনা গাছ লাগানোয় বারোমাই পাতা ও ডাটা সংগ্রহ করা যায়। তিনি জানান, সজিনা চাষে তেমন খরচ নেই। এছাড়াও একই জমিতে পেয়াজ, রশুন, মশুরি চাষ করা যায়।
পূর্ব বলরামপুর গ্রামের কৃষানী মাধুরি রানী জানান, তিনি নিজের বাড়ির আঙিনায় সজিনা চাষ করছেন। এছাড়্ওা এলাকার নারীদের বাড়ির আঙিনায় সজিনা চাষ করতে উৎসাহ দিচেছন। তিনি জানান, নারীদের কাছ থেকে সজিনা কাচা পাতা ৮-১০ টাকা দরে এবং শুকনো পাতা ৪০০ টাকা কেজি ক্রয় করে নিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহবুব আলম রনি জানান, পুষ্টি ও ওষুধি গুনাগুনের কারনে সবার পরিচিত সজিনা গাছ। মুলত কার্টিং রোপন বা বীজ রোপন করে সজিনা গাছ তৈরি করা যায়। তিনি আরো জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শ অনেক কৃষক,গৃহিনী বাড়ির আঙিনায় ও রাস্তার পাশে এই গাছ রোপন করে। তেমন রোগবালাই এবং পরিচর্যা করা লাগে না। তিনি জানান, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষক/কৃষানীদের সজনি গাছ লাগানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আলমগীর হোসেন জানান, সজিনাতে ক্যালশিয়াম,খনিজ লবন,আয়রসহ প্রোটিন ও শর্করা জাতীয় উপাদন রয়েছে। এছাড়া গাছের বাকল, পাতা,ফুল,ডাটা ব্যাবহাওে ওষুধি গুন রয়েছে। তিনি জানান, সজিনা পাতা এন্টিসেপটিভ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।




















