কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নিউ গরিব শাহ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সাপুড়ে সম্প্রদায়ের তাইবা (২০) নামক এক রোগীকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ আসছে।
ভুক্তভোগী রুগীর নাম- তাইবা, পিতা ফেরদৌস, গ্রাম-মশিহাটি, বারোবাজার। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, তাইবার প্রসব বেদনা উঠলে নিউ গরিব শাহ হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব হয়। কিন্তু কাঁটা স্থানে পঁচন ধরলে আবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশন করে। তাতেও রোগীর অবস্থা উন্নতির বদলে খারাপ হলে পরে খুলনায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই তাইবা চিকিৎসারত আছে।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য, হাসপাতালের পাশেই গজে উঠেছে গরীবশাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ক্লিনিকে ভর্তি রোগীদের যাবতীয় প্যাথলজিকাল পরীক্ষা এখানেই করা হয়।মূলত ক্লিনিক ব্যবসার আড়ালে ডায়াগনস্টিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন প্রতিষ্ঠানটির একাধিক স্বত্বাধিকারী।
গত ২৫শে জুলাই গরিব শাহ প্রা. হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বেশ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন পিংকি খাতুন(ছদ্মনাম) নামের একজন রোগী। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি দেখলাম কালীগঞ্জে গিয়ে লাভ কি? গরিব শাহ ক্লিনিকে যখন সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে তখন এখানেই করে ফেলি ।
অভিযোগ, অনুমোদন না নিয়ে চলছে প্যাথলজিকাল পরীক্ষা নিরীক্ষার রমরমা ব্যবসা। নিউ গরিব শাহ হাসপাতাল পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স থাকলেও ডায়াগনস্টিক ব্যবসা করার জন্য সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স নেই গরীবশাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের।ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটিতে তা নেই। স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনায়াসে প্রতিষ্ঠানটি নানা রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে, অভিযোগ সচেতন মহলের।
আবার নিউ গরিব শাহ হাসপাতালের অনুমোদন থাকলেও নেই নবায়ন সনদ। সবকিছুই যেন চলছে জোড়াতালি দিয়ে।
শুধু তাই নয়, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য যেসব নিয়ম মেনে চলার বিধিবিধান রয়েছে তাও মানা হচ্ছে না। একদিকে যেমন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী নার্স নেই, অন্যদিকে সার্বক্ষণিক ডাক্তারও পাওয়া যায় না অনেক সময়। হাসপাতালটির ১০ বেডের অনুমোদন থাকলেও সরেজমিনে ১৮ বেডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক ব্যবসা পরিচালনার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আসলামকে ডায়াগনস্টিক ব্যাবসা পরিচালনার জন্য গরিব শাহ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার ক্লিনিকের বিষয় সিভিল সার্জন দেখবে, আপনারা নিউজ করে কি করবেন, আমি তিনটা কাগজের সাংবাদিক।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. শুভ্র রানী দেবনাথ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তের নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে গজিয়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















