মহিবউল্লাহ কিরন, বরগুনা :
লক্ষাধিক টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন, ভাবা যায়!। ওনার সততার গল্প শুনে অবাক সবাই, নেট দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন যিনি।
ওনার পুরো নাম মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, পেশায় একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি সহকারী কমিশনার হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেটে কর্মরত অবস্থায় ছিলেন। তাঁর সাথে যারা কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তাদের একজনার ফেইসবুক ওয়াল থেকে নেয়া আজকের প্রতিবেদন : তার সাথে আমার কাজ করার সুবাদে কাছ থেকে দেখেছি একজন অফিসার কতটা সৎ হতে পারেন।
যেহেতু তিনি প্রশাসন ক্যাডারের অফিসার তাই বাংলাদেশ সরকারের ভিআইপিদের প্রটোকলে তাঁকে যেতে হয়েছে এবং ভিআইপিদের আপ্যায়ন শিষ্টাচারগত কারণে তাঁকেও গ্রহণ করতে হয়েছে। তিনি গ্রহণকৃত খাবার উনার ডায়েরিতে নোট করে রাখতেন।
আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতাম, তিনি সেসকল প্রশিক্ষণের রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। যেদিন তিনি সরকারি অন্য দায়িত্ব পালনে যেতেন সেদিনের রিসোর্স পারসন এর কোন সুবিধা নিতেন না। এমনকি দুপুরের খাবারও সেই দিন গ্রহণ করতেন না। আমি বললাম স্যার রিসোর্স পারসন হিসেবে ফোনকলে আপনাকে সমন্বয় করেছেন তাহলে কেন খাবার খাবেন না। উত্তরে স্যার বললেন, এটা আজকের জন্য তিনি পাপ্য না। দামী খাবার অগ্রাহ্য করে তিনি রেস্টুরেন্ট থেকে সাধারণ খাবার খেতেন।
অফিসের প্রিন্টারে নিজের কোন কিছু প্রিন্ট দিলে ডায়েরিতে তা লিখে রাখতেন।
আমরা স্থানীয় উদ্যোগে নিরাপদ পানির জার শাখায় রেখে পানি পান করতাম। তিনি কোনদিন এই পানি খাননি। কারণ তিনি সেই পানি রাখার বিষয়টি সঠিক মনে করতেন না।
সিলেট থেকে যখন উনার বদলির অর্ডার হলো তিনি ভিআইপিদের সাথে গ্রহণ করা আপ্যায়ন, অফিসের প্রিন্ট করা কাগজসহ অন্যায় রাষ্ট্রীয় সুবিধা বাধ্য হয়ে নিতে হয়েছে সেগুলোর হিসেব করলেন। তিনি মনে করতেন, অফিস সময়ে সেসকল রাষ্ট্রীয় সুবিধা একজন শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনার কখনও প্রাপ্য হতে পারেন না। তাই সেগুলোর তৎকালীন বাজারমুল্য অনুযায়ী স্যারের বিদায় লগ্নে লক্ষাধিক টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে গিয়েছেন।
এরকম একজন সৎ সজ্জন জনবান্ধব অফিসার এখন আমতলী উপজেলার ইউএনও হিসেবে কর্মরত আছেন। কিছুদিন আগে উনার বদলির আদেশ হয়, সে বদলী আটকাতে আমতলী উপজেলার দল মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ মানববন্ধন করে। এটা একজন অফিসারের জন্য বিড়াট সম্মানজনক। উনি আমতলী উপজেলার অবহেলিত দুস্থ হতদরিদ্র অসহায় প্রতিবন্ধীদের সেবায় বিশেষ নজর দেন,মসজিদ মন্দির থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদের অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছেন যা আমতলীর মানুষ এখন ভোগ করছে।
৫ই আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের পর যখন আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে তখন তিনি পরিবেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে দিন রাত নির্ঘুম পরিশ্রম করে গেছেন,তারই ফলশ্রুতিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা ঈমাম আলেম সমাজ শিক্ষক সাংবাদিক আইনজীবী আমতলী উপজেলা বিএনপি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ সহ সাধারণ মানুষ টানা সপ্তাহ জুড়ে স্যারের বদলির আদেশ ফেরাতে উপজেলা পরিষদ এর চত্তর থেকে শহরের মূল স্থান গুলোতে মানব বন্ধন করে সেই সন্মান টুকু দিয়েছেন।
এই কর্মকর্তা আমতলী উপজেলায় ছাত্রদের কাছে আলোর দিশারি যুব সমাজের আইডল অবহেলিত মানুষের কাছে মানবিক ও উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সমাজে জন বান্ধব অফিসার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন,আল্লাহ পাক স্যার ও স্যারের পরিবারের সবাইকে সুস্থ সুন্দর জীবন এবং হায়াতে তাইয়েবাহ দান করুন।




















